Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়ায় হবে জল পরীক্ষা কেন্দ্র, বরাদ্দ ৪২ লক্ষ টাকা

কাটোয়ায় হবে জল পরীক্ষা কেন্দ্র, বরাদ্দ ৪২ লক্ষ টাকা
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া মহকুমাজুড়ে পানীয় জলে আর্সেনিকের প্রভাব কতটা? আয়রনের পরিমাণই কতটা রয়েছে? এসব জানতে এবার নিয়মিত জল পরীক্ষা করা হবে। এরজন্য মহকুমাজুড়ে তিনটি ল্যাবেরটরি গড়া হবে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের উদ্যোগেই ল্যাবগুলি করা হবে। এরজন্য প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পানীয় জলে আর্সেনিক ফ্লোরাইড কতটা মিশছে তা জানা যাবে সহজেই। 
Advertisement
কাটোয়া মহকুমার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পার্থসারথী সিনহা বলেন, বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে মহকুমার পাঁচটি ব্লকেই। কাটোয়া-১ ও ২ ব্লক মিলিয়ে তিনটি অঞ্চলে আর্সেনিকের প্রভাব রয়েছে। এর জন্য মহকুমায় ৩টি পানীয় জল পরীক্ষা কেন্দ্র করা হবে। খুব শীঘ্রই টেন্ডার ডাকা হবে। আগে এইসব ল্যাবেরটরিগুলি এনজিও দ্বারা পরিচালিত হতো। এবার তা সরসারি আমাদের দপ্তরের আওতায় পরিচালিত হবে। 
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়ার তিনটি অঞ্চলে আর্সেনিকের প্রভাব বাড়ছে। টিউবওয়েলের জলেই আর্সেনিক বেড়েছে। ১৩০ থেকে ১৪০ ফুট গভীরে আর্সেনিকের প্রভাব রয়েছে। তাই কাটোয়া মহকুমাজুড়ে আরও আর্সেনিক রিমুভ্যাল প্ল্যান্ট করার কথা ভাবছে পিএইচই। পাশাপাশি মহকুমায় তিনটি জল পরীক্ষা কেন্দ্র গড়া হবে। একটি কাটোয়ার জাজিগ্রামে, মঙ্গলকোটে একটি ও কেতুগ্রাম জোন-২ এ একটি ল্যাব গড়া হবে। সেখানে নিয়মিত পানীয় জল পরীক্ষা করা হবে। এমনকী, স্কুলগুলিও ওইসব পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়মিত জল পরীক্ষা করাতে পারবেন। এক একটি ল্যাবরেটরির জন্য প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। কাটোয়া-১ ব্লকের খাজুরডিহি অঞ্চল ও কাটোয়া-২ ব্লকের ভাগীরথীর তীরবর্তী অগ্রদ্বীপ আর গাজিপুর অঞ্চলে আর্সেনিকের প্রভাব রয়েছে। কেতুগ্রাম-২ ব্লকের নতুনগ্রামে আর্সেনিক রিমুভ্যাল প্ল্যান্ট রয়েছে। তাই এসব অঞ্চলে নতুন করে আরও আর্সেনিক রিমুভ্যাল প্ল্যান্ট করা হবে। এরজন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে দপ্তরের অফিসারেরা। আগে কাটোয়া মহকুমায় দু’টি জায়গায় জল পরীক্ষা করা হতো। মহকুমার বিভিন্ন স্কুল, পঞ্চায়েতে জলে আর্সেনিকের প্রভাব আছে কি না তার পরীক্ষা করা হতো। কেতুগ্রামের কান্দরা ও শ্রীখণ্ডে দু’টি জল পরীক্ষাকেন্দ্রকে সরিয়ে এনে দপ্তরের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাতে বহু মানুষ জল পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারবেন।
২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ধরে পাইপলাইনের মাধ্যমেই জলের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। বহু প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্লক এলাকায় পাম্প হাউস ও রিজার্ভার তৈরি করে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। মহকুমার প্রায় কয়েক লক্ষ পরিবার এতে উপকৃত হবেন। 
সম্পর্কিত সংবাদ