Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ক্ষতিপূরণের বাড়তি টাকা দিতে চেয়ে দালালচক্রের টোপ

ক্ষতিপূরণের বাড়তি টাকা দিতে চেয়ে দালালচক্রের টোপ
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
উজ্জ্বল রায়, ধূপগুড়ি: ধূপগুড়ির বারোঘরিয়ায় জাতীয় সড়কের জমি নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালালচক্র। এমনকী দিনের আলোতে প্রশাসনের নাকের ডগায় রমরমিয়ে চলছে এই অসাধু কারবার। বিষয়টি নজরে এসেছে, দাবি প্রশাসনের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফোর লেনের জন্য ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কটি ধূপগুড়ির ঝুমুর এলাকায় বাঁক নিয়ে ভেমটিয়া ঘেঁষে বারোঘরিয়ার উপর দিয়ে চলে যাবে। ধূপগুড়ির ছ’টি মৌজায় প্রায় ৮ কিমির মতো তৈরি হবে ফোর লেন। ইতিমধ্যেই জমির মাপজোখ এবং অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। কিছুদিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণ পেয়ে যাবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই আলিপুরদুয়ারের মরিচবাড়ির একটি এবং ময়নাগুড়ির একটি দালালচক্র এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। 
Advertisement
অভিযোগ, ওই দুই গ্যাঙের দালালরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাড়িতে আসছে। তাঁদের ক্ষতিপূরণ বেশি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ‌এমনকী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিভিন্নভাবে প্রলোভিত করার চেষ্টাও করছে চক্রের লোকজন। বিষয়টি কানে পৌঁছতেই বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে কৃষকদের সচেতন করা হয়েছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ বাবদ বিঘা প্রতি ৮০ লক্ষ টাকা আবার কোথাও বিঘা প্রতি এক কোটি টাকার উপর ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু দালালরা এসে সেই ক্ষতিপূরণের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিচ্ছে। বিষয়টি অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছে ধূপগুড়ির পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি দীপু রায়। তিনি বলেন, আলিপুরদুয়ার এবং ময়নাগুড়ির দু’টি দালালচক্র এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাড়িতে বিভিন্ন অছিলায় গিয়ে তাঁদের নানানভাবে প্রলোভিত করে কাগজপত্র হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। 
এ বিষয়ে জানতে আলিপুরদুয়ারে থাকা দালালচক্রের মূল পান্ডাকে ফোন করা হলে তিনি জাতীয় সড়কের একজন ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দেখা করতে বলেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি বলেন,আমি একজন সমাজসেবী। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাহায্য করছি। 
স্থানীয় কৃষক তপন রায় বলেন, প্রতিটি বাড়িতে দালালরা আসছে। ক্ষতিপূরণ বেশি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে। আমার কাছেও এসেছে। তবে এর পিছনে বড়সড় কোনও চক্র জড়িয়ে থাকার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। এলাকার প্রধান ফণীন্দ্রনাথ রায় বলেন, পঞ্চায়েতের তরফে প্রচার করা হচ্ছে যাতে কৃষকরা এই দালালের খপ্পরে না পড়েন। খপ্পরে পড়লে সর্বস্ব খোয়ানোর আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। যদিও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে কোনও বক্তব্য দিতে চায়নি।
সম্পর্কিত সংবাদ