নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত চাষিকে শস্যবিমার আওতায় আনার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লাভপুর ব্লকের ১২ হাজার ৮০০ জন চাষিকেই শস্যবিমার আওতায় আনার জন্য জোর প্রচার শুরু করেছে কৃষিদপ্তর। এদিকে জেলাতে গতবারের তুলনায় অন্তত ৩০ হাজার বেশি আবেদন বাংলা শস্যবিমার জন্য জমা পড়েছে। জানা গিয়েছে, গতবছর খরিফে শস্যবিমায় জেলায় ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার ফর্ম জমা পড়েছিল। এবার তা বেড়ে এখনই ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার হয়ে গিয়েছে। যদিও আবেদনের সময়সীমা এক মাস বাড়ায় চাষিরা অনেকটাই সুযোগ পেয়ে গেছেন। এই সময় কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা বিভিন্নভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্লক হিসাবে পরিচিত লাভপুর, সিউড়ি ১, নানুর, রামপুরহাট ২ এলাকার চাষিরা যাতে আবেদন করেন, সেদিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, লাভপুর ব্লকে অতিবৃষ্টি ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ার জন্য ২১৬৬ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর মধ্যে কমপক্ষে ১২ হাজার ৮০০ জন চাষির জমি জলের তলায় চলে যায়। সেই কারণে লাভপুরে সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে শস্যবিমায়। ব্লকের কৃষি আধিকারিক কাজলকুমার সাহা বলেন, আমরা প্রচারে কোনও খামতি রাখছি না। পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরাও প্রচার করছেন। এখনই ৩০ হাজার ফর্ম জমা পড়েছে। আবেদন করে রাখলে পরে যদি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাহলে আর্থিক সাহায্য পাওয়া যাবে। আবেদন না করলে তো আর কোনওভাবেই মিলবে না। তাই সমস্ত জমির কাগজ দেখিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিতে বলছি। তবে এবার ভালোই সাড়া পাচ্ছি। অন্যদিকে, জেলার সমস্ত ব্লকেই এবার শস্যবিমার আবেদন ভালোমতোই জমা পড়ছে বলে জানা গিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ডানায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির চাষিরাও শেষ মুহূর্তে আবেদন জমা করছেন। সবমিলিয়ে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত জেলাতে আবেদনের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এখনও বেশ কিছু আবেদন জমা পড়ার কথা। জেলা কৃষি উপ অধিকর্তা (প্রশাসন) সূর্যনারায়ণ ঘোষ বলেন, মাঝে দুর্গাপুজো ও টানা ছুটির কারণে কিছুটা ঢিলেমি হয়েছিল। এখন যেমন একদিকে আবেদন গ্রহণ করা চলছে, তেমনই ব্লক স্তর, জেলা স্তরে আবেদনগুলি যাচাই করে পোর্টালে তোলা হচ্ছে।



