সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সোনামুখীর উত্তর নিত্যানন্দপুরে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের কাছ থেকে দু’দিনে প্রায় ৪০০ বস্তা আলু কিনল রাজ্য সরকার। শুক্রবার প্রায় ১০০বস্তা আলু কেনা হয়। শনিবার আরও ৩০০বস্তা আলু কেনা হয়েছে। এদিন কৃষি বিপণন দপ্তরের তরফে সুফল বাংলার মাধ্যমে ওই আলু কেনা হয়। তাতে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ায় চাষিরা খুশি। তবে জলের তলা থেকে মাটি সরিয়ে আলু বের করতে চাষিদের ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। তবুও যতটা সম্ভব তোলার চেষ্টা তাঁরা করছেন।
Advertisement
বাঁকুড়া জেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের(প্রকিওরমেন্ট) আধিকারিক উত্তম হেমব্রম বলেন, ক্যানেলের জলে ডুবে যাওয়া জমি থেকে চাষিরা যতটা আলু তুলতে পারবেন তার সবটাই সরকার কিনে নেবে। দু’দিনে প্রায় ৪০০ বস্তা কেনা হয়েছে। চাষিরা সারাদিন ধরে আলু তোলার চেষ্টা করছেন। তা বস্তায় ভরে ওজন করে ১০টাকা কেজি দরে কিনে নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা বলেন, জলে ডুবে থাকলে পাকা আলুর সবটাই পচে নষ্ট হয়ে যেত। সরকার সহায়ক মূল্যে কিনে নেওয়ায় চাষের খরচটা বেঁচে যাবে। না হলে পুরো টাকাই নষ্ট হয়ে যেত। এজন্য রাজ্য সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। শনিবার ডিভিসির রাইট ব্যাঙ্ক ইরিগেশনের এসডিও উত্তম দাস দাবি করেন উত্তর নিত্যানন্দপুরে আলু জমি জলমগ্ন হওয়ার পিছনে তাঁদের দপ্তর কোনওভাবেই দায়ী নয়। তিনি অতি বৃষ্টিকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, উত্তর নিত্যানন্দপুর থেকে শাখা ক্যানেলের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। তাছাড়া ২০ফেব্রুয়ারি ক্যানেলে জল ছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেচসেবিত এলাকার বাইরে একটি সাধারণ সেচ নালা রয়েছে। চাষিরা সেটিকেই ডিভিসির ক্যানেল বলে মনে করেছেন। বৃষ্টির জল ওই নালা দিয়ে চাষের জমিতে ঢুকেছে। তাতেই আলু জমি ডুবে গিয়েছে। বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, উত্তর নিত্যানন্দপুরে প্লাবিত জল ডিভিসির নয় বলে কর্তৃপক্ষ প্রশাসনকে জানিয়েছে। এখন জল কাদের, সেটা বড় বিষয় নয়। একটা বিপর্যয় হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যে কোনওভাবে চাষিদের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন। আমরা সেটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সমস্ত আলু মাঠে গিয়ে ১০ টাকা কেজি দরে কেনা হচ্ছে।



