Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ক্ষতি হয়নি সব্জি চাষে, ‘ডানা’র দোহাই দিয়ে ফুলকপি ১৫০ টাকা!   

ক্ষতি হয়নি সব্জি চাষে, ‘ডানা’র দোহাই দিয়ে ফুলকপি ১৫০ টাকা!   
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’য় বাঁকুড়ায় সব্জি চাষের ক্ষতি হয়নি। অথচ ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগের বাহানায় বাঁকুড়া শহর সহ জেলার সব্জির দাম ব্যবসায়ীরা দ্বিগুণ-তিনগুণ করে দিয়েছেন। শহরের কেন্দ্রস্থল বলে পরিচিত মাচানতলা এলাকায় বাঁকুড়া পুরসভা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে কেজি প্রতি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১৫০টাকায়। এছাড়া টোম্যাটো ১০০টাকা, বাঁধাকপি, পটল ও শসা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা লঙ্কা, বেগুন, লাউ সহ অন্যান্য সব্জির দামও আকাশছোঁয়া। অথচ দুর্গাপুজোর সময় ওইসব সব্জি অর্ধেক দামে পাওয়া গিয়েছে বলে ক্রেতাদের দাবি। বারবার জানানো সত্ত্বেও বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিসের হুঁশ ফিরছে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। 
Advertisement
কালীপুজোয় ভোগ ও প্রসাদ রান্না করতে সব্জির প্রয়োজন হয়। অগ্নিমূল্য বাজার দরের কারণে অনেকেই পুজোর বাজেটে কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছেন। পুজো মিটলেও বাজারে সব্জির দাম কমছে না। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার নির্দেশ দিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি দল রয়েছে। জেলা পুলিসেরও ‘এনফোর্সমেন্ট’ বিভাগ রয়েছে। তারজন্য একজন ডেপুটি পুলিস সুপার (ডিএসপি, ডিইবি) পদমর্যাদার আধিকারিকও রয়েছেন। অথচ মূল্যবৃদ্ধি রুখতে শেষ কবে বাজারে অভিযান চলেছে, তা আধিকারিকরা জানাতে পারেননি। 
এনিয়ে প্রশ্ন করা হলেও বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন কোনও মন্তব্য করতে চাননি। জেলার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, আমরা বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকি। ফের অভিযান চালানো হবে। 
বাঁকুড়া উদ্যানপালন দপ্তরের উপ অধিকর্তা দেবাশিস মান্না বলেন, ‘ডানা’র জেরে জেলায় সব্জি চাষে ক্ষতি হয়নি। ফলে ফসল নষ্ট হওয়ার কোনও ঘটনাও ঘটেনি।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ায় ‘ডানা’র ঝাপটায় ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগাম পেকে যাওয়া ধানের ক্ষতি বেশি হয়েছে। পাশাপাশি খাস, গোবিন্দভোগের মতো লম্বা প্রজাতির ধানের গাছ ঝড়ে পড়ে যায়। তবে স্বর্ণ বা ওই ধরনের খাটো ধান গাছের ক্ষেত্রে তেমন ক্ষতি হয়নি। বাঁকুড়ার উপ কৃষি অধিকর্তা(প্রশাসন) দেবকুমার সরকার বলেন, ‘ডানা’য় জেলায় ধান চাষে ১২১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। মোট ১৩১৭০হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। তারফলে এবার জেলায় যা ফলন আশা করা যাচ্ছিল, তার থেকে ৫২৬৮০ মেট্রিকটন ধান কম উৎপাদন হবে। তবে ঘূর্ণিঝড়ে জেলায় সব্জি চাষে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তা সত্ত্বেও সব্জির দাম আগুন। 
এদিন মাচানতলায় বাজার করতে আসা বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা কৌস্তভ গঙ্গোপাধ্যায়, শীলা মণ্ডল বলেন, এভাবে সব্জির দাম চড়তে থাকলে মধ্যবিত্তের পক্ষে কেনাকাটা করা মুশকিল হয়ে যাবে। প্রশাসনের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সব্জি বিক্রেতা বলেন, পাইকারি বাজারে দর চড়া থাকায় আমরা বেশি দাম নিতে বাধ্য হচ্ছি। প্রশাসনের সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। আমাদের কাছে পাইকারি বাজারের রসিদ আছে। পুলিস অভিযান চালালে আমরা তা দেখিয়ে দিতে পারব।
সম্পর্কিত সংবাদ