Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত

কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভর্তি এবং স্কুলের সামগ্রী কেনার অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হল। যার জন্য শিক্ষাভবন থেকে চার্জশিট গঠনের চিঠি দেওয়া হয়েছে নদীয়া জেলা শিক্ষাদপ্তরকে। বিষয়টি জানাজানি হতেই শিক্ষক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। প্রধান শিক্ষকের কাছে উপযুক্ত ব্যাখ্যা তলব হয়েছে দপ্তর থেকে। ইতিমধ্যেই প্রধানশিক্ষক লিখিতভাবে তা জানিয়েছেন বিকাশ ভবনকে।‌ উল্লেখ্য, স্কুলের বেশ কিছু শিক্ষকই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছিলেন। যার ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও স্কুলের দাবি, অতীতের সমস্ত কাজ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। 
Advertisement
নদীয়া জেলার ডিআই দিব্যেন্দু পাল বলেন, ‘ডিপার্টমেন্টাল এনকোয়ারির চিঠি এসেছিল। তার উত্তরও প্রধান শিক্ষক দপ্তরকে দিয়েছেন। কিন্তু এর বাইরে আমাদের কিছু জানা নেই। ‌বাকি সিদ্ধান্ত নেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।’ প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘আমি লিখিত উত্তর দিয়েছি।’
কৃষ্ণনগর ঐতিহ্যশালী কলেজিয়েট স্কুলে শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন নয়। স্কুলের সহ শিক্ষকদের একাংশ প্রধান শিক্ষকের বিরোধী। বছর তিনেক আগে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে প্রকাশ্যে ভূগোলের সহ শিক্ষককের হাতাহাতিও হয়েছে। এমনকী অতীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের গেটে পোস্টার পড়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল। যা নিয়েও ব্যাপক শোরগোল পড়ে তখন। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষক দিবসের দিন নিচু ক্লাসে ঢুকে সিনিয়র পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল।‌ ঠিক তারপরেই স্কুলের বাথরুমে এক ছাত্রকে পিস্তল উঁচিয়ে ভয় দেখানোর মতো ঘটনাও ঘটে। যার জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করেছিলেন অভিভাবকরা। বিগত কয়েক বছরে ধরেই নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল। ঐতিহ্যশালী এই স্কুল বারবার নেতিবাচক কারণে খবরের শিরোনামে উঠে আসায় মনঃক্ষুণ্ণ শহরবাসীও।‌ 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে নবম শ্রেণিতে বেশ কিছু ছাত্রকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভর্তি করার অভিযোগ উঠেছিল। অষ্টম শ্রেণিতে ন্যূনতম ৯০ শতাংশ নম্বর পাওয়া একজন ছাত্রকে ভর্তি করার জন্য নোটিস করা হয় স্কুলের তরফ থেকে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, একজনের পরিবর্তে আটজনকে ভর্তি করানো হয়েছিল। যাদের মধ্যে তিনজন ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বর ৯০ শতাংশের কম ছিল। সেইসঙ্গে ২০১৯ সালে স্কুলের বিভিন্ন সামগ্রী কেনার ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে স্কুলের সহ শিক্ষক তাপসকুমার নাথ, বিশ্বরূপ পাত্র, সমীর কোটাল দফায় দফায় অভিযোগ করেছিলেন। ২০২২ সালে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও সহ শিক্ষক সমীরবাবু ফের একবার শিক্ষাদপ্তরের জয়েন্ট সেক্রেটারিকে চিঠি করেন। যার ভিত্তিতে ২০২৩ সালে শিক্ষাদপ্তরের দুজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক তদন্ত করতে এসেছিলেন।‌ সম্প্রতি বিকাশ ভবন থেকে জয়েন্ট সেক্রেটারি নদীয়া জেলা শিক্ষাদপ্তরকে চিঠি দেন। তাতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আভ্যন্তরীণ তদন্ত করতে বলা হয়। 
স্কুলের সহ শিক্ষক তথা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সমীর কোটাল বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নিয়ম মানছেন না। বিভিন্ন সময়ে নির্দেশ অমান্য করছেন। অতীতে আমরা একাধিক বার প্রতিবাদ জানিয়েছি। অনিয়ম নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দপ্তর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কিন্তু তারপরও উনি কী করে চেয়ারে রয়েছেন, সেটাই আমাদের প্রশ্ন। অধিকাংশ শিক্ষকরাই ওঁর উপর ক্ষুব্ধ।’
সম্পর্কিত সংবাদ