সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: আবাসের তালিকায় আগে নাম থাকলেও বর্তমানে নেই। রবিবার কৃষ্ণগঞ্জ থানার শিবনিবাসের গোপাল দাসের এই অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। এ নিয়ে কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা বিজেপি নেতা নীলাদ্রি শুকুলের অভিযোগ, বিজেপি সমর্থক হওয়ায় ওই ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিডিও সৌগতকুমার সাহা বলেন, ‘যে কাগজ উনি এনেছিলেন সেই কাগজের সারবত্তা আমার জানা নেই। সব দেখে বলতে পারব। তবে আমি তাঁকে জানিয়েছি, আবাসের যে তালিকা আছে সেই অনুযায়ী সার্ভে হচ্ছে। আপনি যোগ্য হলে অবশ্যই ঘর পাবেন। কিন্তু আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। আবার যখন হবে তখন। জানা গিয়েছে, কৃষ্ণগঞ্জ থানার শিবনিবাসে গোপাল দাসের বাড়ি। ষাটোর্ধ্ব গোপালবাবু পরিবার নিয়ে টিন আর টালির তৈরি ঘরে থাকেন। পেশায় শ্রমিক। গোপাল দাস বলেন, আগের আবাসের তালিকায় আমার নাম ছিল। এখন সকলের বাড়ি সার্ভে হচ্ছে। কিন্ত আমার বাড়িতে কেউ না আসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তালিকায় আমার নাম নেই। আমি তখন বিডিওর কাছে যাই। বিডিও বলেন, আমার নাম নেই। তিনি আমার অভিযোগও নেননি। তাঁর অভিযোগ, আগে তাঁর নাম থাকলেও এখন কেটে দেওয়া হয়েছে। নিজে বিজেপির সমর্থক স্বীকার করলেও নাম না থাকার কারণ অবশ্য তিনি জানাননি। এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা ব্লকজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের কাঁটাতারের ওপারে কুলেপাড়ায় যান জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি প্রশাসনিক দল। সেই দলে ছিলেন জেলাশাসক অরুণ প্রসাদ, অতিরিক্ত জেলাশাসক অনুপ দত্ত, সদর মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরী, বিডিও সৌগত সাহারা। জেলা প্রশাসনের এই ভূমিকায় খুশি হন উপভোক্তারা। প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে আবাসের সমীক্ষা করতে নদীয়া জেলার ১৮৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই শুরু হয়েছে এই সমীক্ষা। তালিকায় নাম থাকা উপভোক্তার বাড়িতে গিয়ে কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের ২৯টি টিম তদন্ত করছে। তারপরও এই অভিযোগ ওঠায় আলোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে ওই এলাকার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও বিজেপি নেতা নীলাদ্রি শুকুল বলেন, আগের তালিকায় ওঁর নাম ছিল। কিন্ত এখন নাম নেই। বিজেপির সমর্থক হওয়ার জন্যই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী তথা কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কাকলি দাস বলেন, এটা রাজনীতির বিষয় নয়। এই তালিকা আগে হয়েছে। তাই এ নিয়ে বলতে পারব না।



