সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: ভুল তথ্য দিয়ে বাড়ি নিয়েছেন বিজেপি কর্মী। বিডিও নির্দেশ দিলেও টাকা ফেরাতে টালবাহনা চলছে। তবে ওই বিজেপি কর্মীর পাশে রয়েছেন বিজেপির নেতারা। তবে এ নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। জানা গিয়েছে, কৃষ্ণগঞ্জের স্বর্ণখালি ট্যাংরা মোড়ের রঞ্জিত বিশ্বাস পেশায় বিড়ি শ্রমিক। রঞ্জিত বিশ্বাস ও সুচিত্রা বিশ্বাস দু’জনে মিলে বিড়ি বাঁধেন। স্বর্ণখালি গ্রামে তাঁদের জমির ওপরে বাংলা আবাসের ঘরের অনুমোদন হয়েছে। সেই মতো আবাসের ঘরের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে এসেছে। তবে রঞ্জিত বিশ্বাসের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পর ব্লক প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছেছে ষাটোর্ধ ব্যক্তিটি ভুল তথ্য দিয়ে বাড়ি নিয়েছেন। এরপরই বিডিও তাঁকে ২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পে গৃহ নির্মাণের আর্থিক সহায়তা পাওয়া ওই টাকা অফিসের অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া নিয়ে চিঠি পাঠান। তার জন্য ৭ দিন সময়ও দেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ওই টাকা রঞ্জিত বিশ্বাস ফেরত দেননি। উল্টে তিনি বলেন, ‘আমি ওই টাকা কোথায় পাব? ঘর তৈরির সামগ্রী কিনে ফেলেছি। আমি সঠিক তথ্য দিয়েছি। আমার ঘরের পাশে ছেলের পাকা ঘর আছে। তার সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগও নেই। কিন্তু আমার কোন পাকা ঘর নেই। আমার টিনের ঘর আছে সে কথাই জানিয়েছি। এখন বিডিও অফিস থেকে ঘরের টাকা ফেরত চাওয়া হচ্ছে।’ এ নিয়ে বিজেপি নেতা অমিত প্রামাণিক দলের কর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘রঞ্জিত বিশ্বাস বিজেপি করে বলেই তার ঘরের টাকা ফেরত দিতে বলা হচ্ছে। তদন্তকারীরা তিনবার ওই এলাকায় এসে তদন্ত করেন। তারপরও কী করে ভুল হয়?’ এ প্রসঙ্গে বিডিও সৌগতকুমার সাহা বলেন, ‘ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে ঘর নিয়েছে। পাকা ঘর আছে খবর পেয়ে আমরা ওই ব্যক্তির বাড়িতে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। তারপরও টাকা ফেরত দিচ্ছে না। আমরা এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনত ব্যবস্থা নিতে চলেছি।’ তবে প্রশাসনের কর্তারা তদন্ত করলেও সেখানে যে গাফিলতি হয়েছে, এ কথা তো অস্বীকার করা যাবে না। এ নিয়ে সৌগতবাবু বলেন, ‘ব্লকের এত মানুষ আবাসের টাকা পেয়েছেন, অসুবিধা হয়নি। তবে কখনও ভুল হয়।’
Advertisement
এ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি সমীর বিশ্বাস বলেন, ভুল তথ্য দিয়ে এভাবে ঘর নেওয়া সম্পূর্ণভাবে অনৈতিক কাজ। বিজেপি কর্মীর এভাবে ভুল তথ্য দেওয়া ঠিক হয়নি।’ এভাবে ভুল তথ্য দিয়ে ঘর পাওয়া নিয়ে এলাকাতে নিন্দার ঝড় বইছে।



