Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষকবন্ধুর রেজিস্ট্রেশনে গড়িমসি, ধান বিক্রিতে বাধা, হতাশ বহু চাষি   

কৃষকবন্ধুর রেজিস্ট্রেশনে গড়িমসি, ধান বিক্রিতে বাধা, হতাশ বহু চাষি   
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কৃষকবন্ধু প্রকল্পর বাইরে থাকা চাষিরা সরকারিভাবে ধান দিতে পারছেন না। ধান বিক্রি করার জন্য পোর্টালে আবেদন করলেও বিডিও অফিস থেকে অনুমোদন না মেলায় হতাশ শিল্পাঞ্চলের বহু কৃষক পরিবার। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষক বন্ধু প্রকল্পের বাইরে থাকা ৩ হাজার ৭২৩ জন কৃষক সরকারিভাবে ধান বিক্রির জন্য পোর্টালে আবেদন করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও অনুমোদন দেওয়ার পরই তাঁরা ধান বিক্রি করতে পারবেন। অভিযোগ, সিংহভাগ আবেদনই ‘পেন্ডিং’ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ৩ হাজার ৭২৩টি আবেদনের মধ্যে ৩ হাজার ১৯৭টি আবেদন এখনও পেন্ডিং। অর্থাৎ ওই আবেদনগুলি সরকারি অফিসে পড়ে রয়েছে। তা গ্রহণ বা বাতিল করা হয়নি। 
Advertisement
৪৬৬টি আবেদন শুধুমাত্র মঞ্জুর হয়েছে। ৬০টি আবেদন বাতিল হয়েছে। যাঁদের আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে তাঁরা সরকারি মূল্যে ধান বিক্রির আশা ছেড়ে ফড়েদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন আবেদন পেন্ডিং হয়ে থাকা চাষিরা। তাঁরা আশা করছেন, দ্রুত সম্মতি মিলবে বিডিওর। তারপরেই তাঁরা সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবেন। অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, যাতে ইচ্ছুক চাষিরা সবাই নিয়ম মেনে ধান বিক্রি করতে পারেন, তারজন্য সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা নেওয়া হয়েছে।
জামুড়িয়ার চাকদোলার বাসিন্দা লক্ষ্মীকান্ত ঘোষের কৃষকবন্ধুতে নাম নথিভুক্ত নেই। তাই তিনি ‘নন কেবি’ চাষি হিসেবে ধান বিক্রি করতে আবেদন করেছিলেন। তিনি বলেন, আমার বাবার নামে জমি থাকায় তাঁর নামেই কৃষকবন্ধু কার্ড রয়েছে। বাবার পা ভেঙে গিয়েছে। বাড়ির বাইরে যেতে পারেন না। তাই আমি বাড়ির ধান বিক্রি করার জন্য ১৫ দিন আগে আবেদন করেছিলাম। বুধবার পর্যন্ত আমার আবেদনের কোনও সুহারা হল না। 
জামুড়িয়া ব্লকের অচিন্ত্য ঘোষ বলেন, বাবা অনেক বয়স্ক। আমি ধান বিক্রি করার জন্য আবেদন করেছিলাম। দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আমাকে কিছুই জানানো হল না। রাজ্য সরকার চায় সমস্ত ইচ্ছুক চাষিই যেন সরকারকে ধান বিক্রি করতে পারেন।  যাঁদের নিজের নামে জমি আছে বা স্বীকৃত ভাগচাষি তাঁদের কৃষকবন্ধু প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাঁরা সরাসরি পোর্টালের মাধ্যমে ধান বিক্রির স্লট বুক করতে পারেন। এর বাইরেই যে সব চাষি স্বীকৃত ভাগচাষি নন। অর্থাৎ ভাগচাষ করার কোনও লিখিত প্রমাণ নেই বা ভাইদের মধ্যে মৌখিক জমি বণ্টন হলেও জমির মালিকানা থেকে গিয়েছে বাবার নামেই তাঁদের কথাও চিন্তা করেছিল রাজ্য সরকার। তাই ‘নন কেবি’ বলে একটি অপশন রাখা হয়। সেক্ষেত্রে এসব চাষিদের নন কেবি হিসেবে পোর্টালে আবেদন করতে হবে। তা আবেদন যাচাই করবেন ব্লকের এগ্রিকালচারারাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার(এডিএ) ও বিডিও। তারপরই দেওয়া হবে অনুমোদন। কিন্তু সেই তথ্য যাচাইয়ে জট পেকে রয়েছে। দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের বিডিও অর্ঘ্য ঘোষ বলেন, বহু ক্ষেত্রেই চাষিরা প্রয়োজনীয় নথি জমা করছেন না। আমরা দ্রুত সমস্যগুলি সমাধান করার চেষ্টা করছি।  
সম্পর্কিত সংবাদ