নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কম জমি থাকা চাষিদের কাছ থেকে কৃষকবন্ধু কার্ড হাতিয়ে ফড়েরা ফায়দা তুলছে। শনিবার বর্ধমানে রাইসমিল অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে এমনই দাবি তুলে সরব হলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তিনি বলেন, ফড়েরা কৃষকবন্ধু কার্ড সংগ্রহ করছে। পরে তারা তা দেখিয়েই সহায়ক মূল্যে সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করছে। সরকার চাষিদের অভাবী বিক্রি বন্ধের জন্য ধান কিনছে। ফড়েরা যাতে সুবিধা না নিতে পারে তা দেখতে হবে। এদিন জেলা রাইসমিল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চাষিদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, জেলাশাসক আয়েশা রানি এ, সহ সভাধিপতি গার্গী নাহা সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। রাইসমিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, খাদ ছাড়া বহু কৃষক ধান বিক্রি করেছেন। সেইসমস্ত কৃষকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি বলেন, বহু চাষি জানেন না ধানে কতটা আর্দ্রতা থাকতে পারে। তাঁদেরকে এসমস্ত বিষয়ে জানানোর জন্য এভাবেই খোলা মাঠে কর্মশালা করা হলে ভালো হয়। রাইসমিল অ্যাসোসিয়েশনকেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চাষিরা ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করতে গিয়ে যাতে কোনও সমস্যায় না পড়েন তা দেখতে হবে।
Advertisement
জেলাশাসক বলেন, এবছর ধান কেনার ক্ষেত্রে চাষিদের কাছে থেকে তেমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমরা বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন করেছি। খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সহায়ক মূল্যে ধান কেনার জন্য এবার ক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি বিভিন্ন গ্রামে ক্যাম্প করে ধান কিনছে। তবে মঙ্গলকোট, ভাতার সহ কয়েকটি এলাকায় খাদের অজুহাত দেখিয়ে চাষিদের থেকে ধান বেশি নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। সরকারি আধিকারিকরা ওই এলাকাগুলিতে লাগাতার পরিদর্শন করেছেন। ফড়েরা প্রশাসনের চোখে ধুলো দিতে এখন অন্য কৌশল নিয়েছে। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় থাকা বহু কৃষকের অল্প পরিমাণ জমি রয়েছে। সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করার সুযোগ থাকে না। অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে তারা ওই কৃষকদের কাজে লাগাচ্ছে। তাদের নামেই তারা ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করছে। চাষিদের অ্যাকাউন্টেই টাকা জমা পড়ছে। কমিশন দিয়ে ফড়েরা সেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এক আধিকারিক বলেন, চাষিরা ফড়েদের সহযোগিতা করলে তাদের চিহ্নিত করা সহজ নয়। ফড়েদের দাপট বন্ধ করার জন্য কৃষকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তাঁদের অ্যাকাউন্ট অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, রাইসমিল মালিকরা চাষিদের সংবর্ধনা দিচ্ছে, এটা দেখা যায় না। এটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
এক আধিকারিক বলেন, চাষিরা ফড়েদের সহযোগিতা করলে তাদের চিহ্নিত করা সহজ নয়। ফড়েদের দাপট বন্ধ করার জন্য কৃষকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তাঁদের অ্যাকাউন্ট অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, রাইসমিল মালিকরা চাষিদের সংবর্ধনা দিচ্ছে, এটা দেখা যায় না। এটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ।



