সংবাদদাতা, লালবাগ: গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসে ভাগীরথী পাড়ের বড়নগরকে কৃষি পর্যটনে দেশের সেরা গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করেছিল ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রক। কিন্তু স্বীকৃতি লাভের পর চার মাস কেটে গেলেও বড়নগরকে দেশের পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরতে কেন্দ্র সরকার কিছুই করেনি বলে অভিযোগ। বরং রাজ্য পর্যটন দপ্তর বেশ কয়েকটি মন্দির সংস্কার ও ভাগীরথী নদীতে ঘাট নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গিয়েছে। জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার বড়নগরের উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি সমস্ত এলাকাকে আলোয় মুড়ে ফেলার জন্য হাইমাস্ট বাতিস্তম্ভ ও এলইডি বাল্ব লাগানো হবে।
Advertisement
মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের মুকুন্দবাগ গ্রাম পঞ্চায়েতে অবস্থিত বড়নগর। এই গ্রামেরসঙ্গে নাটোরের রানি ভবানীর নামঅঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। বালিকা বেলায় স্বামীকে হারানরানি ভবানী। বিধবা হয়ে চলে আসেন বড়নগরে। তখন বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার রাজধানী ছিল বড়নগর। রানি ভবানী বড়নগরকে দেশের দ্বিতীয় বারাণসী হিসেবে গড়ে তোলার সংকল্প নিয়ে ১০৭টি শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তার মধ্যে অন্যতম ভবানীশ্বর মন্দির। শিবভূমি কাশীতেও ভবানীশ্বর নামের একটি শিবমন্দির নির্মাণ করেছিলেন তিনি। অনুমান করা হয়,১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে বড়নগরে ভবানীশ্বর শিবমন্দির গড়ে তুলেছিলেন তিনি।এছাড়াও এখানে রয়েছে সুপ্রসিদ্ধ টেরাকোটার চারবাংলা মন্দির সহ একাধিক মন্দির। প্রজাহিতৈষী রানি ভবানী বড়নগরে শুধু মাত্র পূজার্চনা আর মন্দির নিমার্ণেনিজেকে আটকে রাখেননি। তিনি এলাকার আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পানীয় জল ও কৃষিকাজে সেচের ব্যবস্থা করতে পুকুর খনন করান। গরিব প্রজাদের কথা মাথায় রেখে বড়নগরে লঙ্গরখানা প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষার পাশাপাশি কৃষিকাজের প্রতি বিশেষ নজর দেন। অষ্টাদশ শতকের আধুনিক চিন্তা চেতনায় উদ্বুদ্ধ এই রমণী ক্রমে প্রজাদের কাছে দেবী হয়েওঠেন। এহেন বড়নগর কেন্দ্র সরকারের পর্যটন মন্ত্রকের বিচারে কৃষি পর্যটনে দেশের সেরা গ্রামের শিরোপা লাভ করায় জেলাবাসী আশায় বুক বাঁধতে শুরু করে। ইতিহাস গবেষক সমীর ঘোষ বলেন, বড়নগরজুড়ে রয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপত্য। কেন্দ্র সরকারের ঘোষণার পর ভেবেছিলাম, ওই ঐতিহ্য রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নদী ভাঙনের হাত থেকে বড়নগরকে রক্ষার তৎপরতা শুরু হবে। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে হতাশ হচ্ছি।
জেলা পর্যটন দপ্তরের আধিকারিক সব্যসাচী খান রায়ের সঙ্গে বড়নগরের প্রতিনিধি হয়ে দিল্লিতে পর্যটন মন্ত্রকের স্বীকৃতি গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন রানি ভবানি বিদ্যাপীঠের পরিচালন কমিটির সম্পাদক উৎপল মণ্ডল। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার ভাগীরথীতে একটি ঘাট নির্মাণ এবং দু'টি মন্দির সংস্কারের পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু কেন্দ্র সরকার শিরোপা প্রদান করেই দায় সেরেছে। এখনও পর্যন্ত বড়নগরকে ঘিরে কেন্দ্র সরকারের কোনও পরিকল্পনার খবর পাওয়া যায়নি।
জেলা পর্যটন দপ্তরের আধিকারিক সব্যসাচী খান রায়ের সঙ্গে বড়নগরের প্রতিনিধি হয়ে দিল্লিতে পর্যটন মন্ত্রকের স্বীকৃতি গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন রানি ভবানি বিদ্যাপীঠের পরিচালন কমিটির সম্পাদক উৎপল মণ্ডল। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার ভাগীরথীতে একটি ঘাট নির্মাণ এবং দু'টি মন্দির সংস্কারের পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু কেন্দ্র সরকার শিরোপা প্রদান করেই দায় সেরেছে। এখনও পর্যন্ত বড়নগরকে ঘিরে কেন্দ্র সরকারের কোনও পরিকল্পনার খবর পাওয়া যায়নি।



