নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি: কৃষিই ভিত্তি, এই কথা মাথায় রেখেই এবারের বাজেটে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে এই বিভাগ। কৃষকদের জন্যও সুযোগ সুবিধা এনেছে কেন্দ্র। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, ঠিক যে সময়ে কৃষকরা আন্দোলন ও অনশন করছেন তখনই বাজেটে কৃষিক্ষেত্রে একাধিক সুবিধা ও প্রকল্পের ঘোষণা করে ক্ষতে প্রলেপ লাগাতে চাইছে মোদি সরকার। আজ, শনিবার বাজেট পেশের শুরুটাই কৃষি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণাও করেন তিনি। বলেন, প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা নামের এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জেলা ভিত্তিক কৃষির উপর জোর দেবে কেন্দ্র। দেশের যে জেলাগুলিতে ফসলের ফলন কম হয় সেখানেই এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের ১০০টি জেলায় এই প্রকল্প চালু হবে। তবে এই প্রকল্পে কেন্দ্র কিন্তু একা নয় বরং রাজ্যগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই কাজ করতে হবে। আর এইখানেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি। আবাস, জলজীবন মিশন, ১০০ দিনের কাজে কেন্দ্র নামমাত্র অর্থ বরাদ্দ করে গোটা প্রকল্পটাই রাজ্যের কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে। আর নাম কিনছে কেন্দ্র। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনার ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটবে না তো? উঠছে প্রশ্ন। এছাড়াও এদিনের বাজেটে নেই ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিয়ে কোনও প্রস্তাব। তাহলে কীভাবে কৃষক দরদি হচ্ছে মোদি সরকার? প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
Advertisement
তবে প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ কৃষক উপকৃত হবেন বলেই দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে এদিন তিনি বাজেটে ঘোষণা করেছেন কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের লোন দেওয়ার পরিমাণ ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হচ্ছে। ফসল মজুতের জন্য পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরে গুদামঘর গড়ে তোলার প্রস্তাবও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। এর পাশাপাশি দেশে তুলোর উৎপাদন বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ মিশনের কথা ঘোষণা করেছেন নির্মলা। ভোজ্য তেলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া থেকে শুরু করে দেশে তৈলবীজ চাষে বিশেষ নজর দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, আগামী ৬ বছরের মধ্যে দেশ ডালজাতীয় শস্য চাষে আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে। মাছ উৎপাদন বাড়ানোর কথাও বাজেটে উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া আন্দামান নিকোবর ও লাক্ষাদ্বীপে মৎস্য চাষে বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলার কথাও বলেছেন। তবে বাজেটে কৃষি ক্ষেত্রেও বিহারের জন্য আলাদা কিছু ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, বিহারে মাখানা বোর্ড গড়ে তোলা হবে। মূলত মাখানা চাষে জোর দিতেই এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের, জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে এটাও যে বিহারের ভোটকে মাথায় রেখেই সেই বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই রাজনৈতিক মহলে।



