Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কুয়াশার জেরে কাটোয়া মহকুমায় আলুতে ধসা রোগের প্রকোপ

কুয়াশার জেরে কাটোয়া মহকুমায় আলুতে ধসা রোগের প্রকোপ
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: শীতের শেষদিকে কুয়াশার দাপটে কাটোয়া মহকুমাজুড়েই আলু চাষে ধসা রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। মহকুমার মঙ্গলকোট, কেতুগ্রামে ধসা রোগের প্রকোপে চাষিরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
Advertisement
কাটোয়া মহকুমার সহ-কৃষি অধিকর্তা প্রলয় ঘোষ বলেন, যাঁরা শেষ মুহূর্তে জমিতে আলু লাগিয়েছিলেন, তাঁদের জমিতেই একটু ধসা রোগের প্রকোপ দেখা যাবে। তবে তার জন্য কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। সার্বিকভাবে খুব একটা ক্ষতি হবে না। পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৭০-৭২হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। কাটোয়া মহকুমার পাঁচটি ব্লকজুড়ে প্রায় তিনহাজার হেক্টর  জমিতে আলু চাষ হয়। জ্যোতি, চন্দ্রমুখী ও পোখরাজ-এই তিন জাতের আলু এই মহকুমায় চাষ হয়। মঙ্গলকোট ব্লকেই সবচেয়ে বেশি আলুর চাষ হয়। সেখানে জ্যোতি আলু বেশি চাষ হয়। পূর্বস্থলীর বিশ্বরম্ভা, কালেখাঁতলা ১ ও ২ পঞ্চায়েতেও জ্যোতি আলু চাষ বেশি হয়। জ্যোতি আলুর চাষ সব জায়গায় ভালোমতোই হয়েছে। তবে পোখরাজ আলু চাষে সমস্যা হয়েছিল। কাটোয়ার গোয়াই, সুনিয়া, সুড্ডো গ্রামে পোখরাজ জাতের আলু বেশি চাষ হয়। এবার সেখানে বৃষ্টিতে জল জমে বহু জমি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই পোখরাজ চাষ দেরিতে হয়েছিল।
মঙ্গলকোটের আলুচাষি দিলীপ দত্ত, আবু বক্কর, নাসির শেখ জানালেন, জ্যোতি আলু এবার দেরিতেই লাগিয়েছিলেন। এখন জমির বেশ কিছু অংশে দেখছি, ধসা রোগ দেখা দিয়েছে। কী করবেন বুঝতে পারছেন না। কেতুগ্রামের চাষি নিমাই শীল বলেন, আমার জমির মাঝের অংশে ধসা রোগ লেগেছে। আলু চাষে বিঘাপ্রতি ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ আছে। এবার ফলন কী করে বাড়বে-সেটা ভেবে পাচ্ছি না। পূর্বস্থলীর এক চাষি বলেন, আমি ৩০ বিঘা জমিতে জ্যোতি আলুর চাষ করেছি। তার মধ্যে সাত-আট বিঘায় ধসা লেগেছে। মঙ্গলকোটের সরুলিয়ার চাষি নিমাই সাহা বলেন, গতবছরও আলু চাষে লোকসান হয়েছে। আমাদের জালপাড়া, কাশেমনগর, সরুলিয়া এলাকায় নতুন করে চাষিদের আলুর বীজ লাগাতে হয়েছিল। এবার চরম কুয়াশার জন্য  আলুগাছে ধসা লেগেছে। প্রতিদিন যে কুয়াশা হচ্ছে, তাতে রোগের প্রকোপ আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ