Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কুয়াশার আড়ালে রানিনগর সীমান্তে নিষিদ্ধ সিরাপ পাচার

কুয়াশার আড়ালে রানিনগর সীমান্তে নিষিদ্ধ সিরাপ পাচার
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ডোমকল: ক্যালেন্ডারের পাতায় চলছে মাঘ মাস। তবে সীমান্তের চোরাকারবারিদের ব্যবসায় এখন চলছে ‘পৌষ মাস’। মাঘের প্রথমার্ধে ভালোই পড়ছে শীত। আর শীতের ঘন কুয়াশায় সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর দৃশ্যমানতার সমস্যাকে কাজে লাগিয়েই সীমান্তে রমরমিয়ে চলছে চোরাকারবার।  রীতিমতো কুয়াশাকে ‘বর্ম’ করেই ওপার বাংলায় চলছে দেদার নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচার। পাচারের টাকায় অল্প সময়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে কারবারিদের। যদিও সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর বাড়তি নজরদারিতে অনেকক্ষেত্রে পাচারকারিদের ধাওয়া করে সিরাপ উদ্ধার করলেও কুয়াশায় দৃশ্যমানতার সমস্যাকে হাতিয়ার করে ফস্কে যাচ্ছে পাচারের ক্যারিয়াররা। মঙ্গলবার রাতেও রানিনগরের রাজানগর এলাকা দিয়ে পাচারের সময় ২৫১ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করেছে বিএসএফের ৭৩ ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা। সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হলেও ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় দুষ্কৃতীরা। ওইদিনই শেষরাতে পাশের চর মৌরুশি সীমান্ত দিয়ে রাতের অন্ধকারে প্লাস্টিকের ব্যাগে কাশির সিরাপ নিয়ে পাচারের চেষ্টা করেছিল পাচারকারীরা। তাদের ধাওয়া করলেও ঘন কুয়াশাকে ঢাল করে সবাই পালিয়ে যায়। পরে প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় ৯৪ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ।
Advertisement
বিএসএফ সূত্রের খবর, দিন কয়েক থেকে হঠাৎ করে কুয়াশা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে পাচারকারীরা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের প্রতিহত করতে অবশ্য বিএসএফের তরফে বাড়তি নজরদারিও শুরু হয়েছে সীমান্তে। মঙ্গলবার রাতে নজরদারি চলাকালীন রাজানগর বিওপি এলাকা দিয়ে কয়েকজন পাচারকারী বস্তার মধ্যে কাশির সিরাপ লুকিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানদের নজরে আসে বিষয়টি। তৎক্ষণাৎ বিএসএফ জওয়ানরা বিভিন্ন দিক থেকে তাদের পেছনে ধাওয়া করলেও ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে বস্তা ফেলেই পালিয়ে যায় পাচারকারীরা। এরপরই বস্তা থেকে উদ্ধার হয় ২৫১ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। 
এছাড়া রানিনগরের চর মৌরুশিতে ৯৪ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করেছে বিএসএফ। তবে দুই ক্ষেত্রেই ঘন কুয়াশার সুযোগে চম্পট দিয়েছে পাচারকারীরা। বিএসএফ সূত্রের খবর, শীতের এই সময়ে বাংলাদেশে সিরাপের চাহিদা থাকে তুঙ্গে । শীতের ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে মাঝে মাঝে নজরদারিতে সমস্যা হয়। চোরাকারবারিরা এই সুযোগটাকে কাজে লাগায়। জওয়ানরাও কড়া নজর রাখে। বিএসএফের গতিবিধি টের পেলেই দুষ্কৃতীরা সেখান থেকে চম্পট দেয়। ফলে সিরাপ উদ্ধার হলেও পাচারকারিদের বাগে আনা মুশকিল হয়ে পড়ছে। যদিও কড়া পাহারায় পাচারের আগেই সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে বলে দাবি বিএসএফ জওয়ানদের।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ