রাজদীপ গোস্বামী, কেশপুর: বুড়্যাপাট জাগরণী সেবা সঙ্ঘের উদ্যোগে লোক সংস্কৃতি উৎসব ও স্বাস্থ্যমেলাকে কেন্দ্র করে উন্মাদনায় ভাসলেন কেশপুর ব্লকের একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। তিনদিন ধরে উৎসব ও মেলায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। জানা গিয়েছে, গত রবিবার জাগরণী সঙ্ঘের ৪৩তম বাৎসরিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেশপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজা, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গড়াই, আমনপুর পঞ্চায়েতের প্রধান তাপস দোলই, শিক্ষাবিদ সত্যব্রত দোলই প্রমুখ। মঙ্গলবার অনুষ্ঠানের শেষ দিন ছিল। জানা গিয়েছে, এই ক্লাবের উদ্যোগে বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, নৃত্য ও সঙ্গীতের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তবে সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যমেলা থেকে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের পরিষেবা দেওয়া হয়। এই ক্লাব প্রাঙ্গণে চক্ষু পরীক্ষা শিবির, প্রতিবন্ধীদের সরঞ্জাম বিতরণ ছাড়াও সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে রক্তদান ও বস্ত্রদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বুড়্যাপাট, গোহড়িয়া, সাতডুবি সহ একাধিক গ্রামের মানুষ জড়িয়ে রয়েছেন। ক্লাবের সকল সদস্য কয়েকমাস আগে থেকেই বাৎসরিক অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু করেন। প্রতি বছর অনুষ্ঠান থেকে নানা সমাজিক কাজ করা হয়। ক্লাবের সভাপতি সৌমিত্র ঘোষ বলেন, পুলিস ও প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় মাপের অনুষ্ঠান করা সম্ভব হতো না। এই অনুষ্ঠানে প্রচুর মানুষ এসেছেন।
Advertisement
প্রসঙ্গত, ১৯৮৪ সালে বুড়্যাপাট এলাকার যুবক-যুবতীরা এই ক্লাবের সূচনা করে। প্রথম দিকে ক্লাবের নির্দিষ্ট কোনও ঘর ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় আড্ডার আসর বসত। সেখানে সামাজিক কাজ নিয়ে আলোচনা হতো। ১৯৯৬সাল থেকে বিভিন্ন সেবামূলক কাজ শুরু করেন ক্লাবের সদস্যরা। পাশাপাশি ক্লাবের সদস্যদের উদ্যোগে সরস্বতী পুজো, রথযাত্রার আয়োজন করা হয়। এছাড়া এই ক্লাবের উদ্যোগে বিনামূল্যে নাচ, আঁকা, যোগা, ক্যারাটে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে। পাশাপাশি বছরে দু’-তিনবার স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। জানা গিয়েছে, খেলাধুলোয় এই ক্লাব বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই ক্লাবের নিজস্ব ক্রিকেট দল রয়েছে। সেই ক্রিকেট দল একাধিক টুর্নামেন্টে জয়ী হয়েছে।
ক্লাবের সম্পাদক অরূপ পাত্র ও মুখ্য উপদেষ্টা রবিলোচন চৌধুরী, সক্রিয় সদস্য অমির পাত্র, কোষাধ্যক্ষ সত্যকিঙ্কর ঘোষ বলেন, এলাকার ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলোর ক্ষেত্রে উৎসাহ দেওয়া হয়। আমাদের ক্লাবের মূলমন্ত্র একতা। ক্লাবের উদ্যোগে হওয়া রথযাত্রায় ব্যাপক ভিড় হয়। ক্লাবের সদস্যদের উদ্যোগে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। এছাড়া দুঃস্থ, অসহায়দের সহায়তায় খাবার বিতরণও করা হয়। ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিবরাম পাড়ুই বলেন, মানুষের পাশে থাকাই তো আমাদের কর্তব্য। আগামী দিনেও মানুষ বিপদে পড়লে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ব।-নিজস্ব চিত্র



