Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেশপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের সুযোগে মাথাচাড়া দিচ্ছে সিপিএম

কেশপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের সুযোগে মাথাচাড়া দিচ্ছে সিপিএম
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: শীতের সকালে চায়ের দোকানে জমাটি আড্ডা। রাজনীতি থেকে খেলাধুলো সবই উঠে আসছে আলোচনায়। কথায় কথায় একজন বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রেশন দিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু কেশপুরে গোষ্ঠী কোন্দলে তৃণমূলের অবস্থা খুবই করুণ। অন্যজন তাঁকে সমর্থন জানিয়ে বললেন, বরং সিপিএমের মিটিংয়ে ভালো লোক হচ্ছে। পার্টি অফিসে ফের লাল ঝান্ডা উড়ছে। কেশপুরের রাজনীতির অন্দরে কান পাতলেও এমনই চাঞ্চল্যকর কথা শোনা যাচ্ছে। যা নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। কেশপুরের মানুষের কথায়, মানুষের সমস্যা শোনার ইচ্ছে নেই তৃণমূল নেতাদের। তাদের মধ্যে একাধিক গোষ্ঠী। এক গোষ্ঠীর লোক অন্য গোষ্ঠীকে পাত্তা দেয় না। মাঝেমধ্যেই তাদের কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসছে। তার জেরে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিজেপি ছবিতে না থাকলেও সিপিএমের এরিয়া কমিটির মিটিংয়ে ভালোই জন সমাগম হয়েছে। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের সুযোগ নিয়ে মাথাচারা দিচ্ছে সিপিএম। 
Advertisement
কেশপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শিউলি সাহার বক্তব্য, ব্লক নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ আছে। সেটা দলকে জানিয়েছি। কিন্তু কেশপুরের মাটিতে সিপিএমকে সুযোগ দেব না। এটা তৃণমূলের মাটি থাকবেই। আমরা উন্নয়নকে নিয়ে এগিয়ে যাব। আমরা একসঙ্গেই চলব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময়ে কেশপুর ছিল সিপিএমের গড়। লাল পার্টির অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল মানুষ। রাজনৈতিক হানাহানি রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০০০ সাল থেকে কেশপুরে তৃণমূলের উত্থান শুরু হয়। সিপিএম নেতাদের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। তৃণমূলের সেই উত্থানের অন্যতম কারিগর ছিলেন মহম্মদ রফিক। ২০০৬ সালের পর থেকে কেশপুরে সিপিএমের অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল হলেও কেশপুরের রাজনৈতিক রং বদলায়নি। কেশপুর থেকে সিপিএম জিতেছিল। তবে ২০১৬ সালে কেশপুর বিধানসভা তৃণমূলের দখলে আসে। এরপর কেশপুরের মাটিতে সিপিএম আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এমনকী সামান্য এরিয়া কমিটির বৈঠক করলেও মেদিনীপুর বা জেলার অন্য কোথাও করত কেশপুর ব্লকের সিপিএমের নেতাকর্মীরা। কিন্তু সেই কেশপুরের মাটিতে নির্বিঘ্নেই এরিয়া কমিটির সম্মেলন সেরে ফেলেছে সিপিএম। এখানে সিপিএমের তিনটি এরিয়া কমিটি রয়েছে। সেই এরিয়া কমিটির সম্পাদক বাছাই করার কাজ হয়েছে। এরিয়া কমিটির বৈঠকে বিপুল সংখ্যক কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। 
এক তৃণমূল নেতা বলেন, কেশপুরে একাধিক গ্রুপ রয়েছে। নেতাদের মধ্যে পদ পাওয়া নিয়েও অশান্তি রয়েছে। এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত থাকে। কিছু দিন আগে কেশপুর কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠান নিয়েও গোষ্ঠী কোন্দল চরমে উঠেছে। বিধায়কের সঙ্গে ব্লক নেতৃত্বের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সিনিয়র নেতাকেও মান্য করা হয় না। কেশপুরের ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রদ্যোৎ পাঁজা বলেন, আমাদের গোষ্ঠী কোন্দল নেই। বিরোধীদের পাশে কেউ নেই। সিপিএমের অত্যাচার মানুষ আজও ভোলেনি। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে মানুষ থাকবে। আবার কেশপুর থেকে এক লক্ষের বেশি ভোটে তৃণমূল জিতবে। সিপিএমের অত্যাচার মানুষ ভুলে যাবে, এটা হতে পারে না। অপরদিকে, কেশপুরের সিপিএম নেতা শুভাশিস পাইন বলেন, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে নয়, মানুষ আমাদের পাশেই আছেন, থাকবেনও।
সম্পর্কিত সংবাদ