Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেশপুরে হাজারের বেশি ছোট রাস্তা বেহাল, শাসক দলের গোষ্ঠী কোন্দলে স্তব্ধ সংস্কার

কেশপুরে হাজারের বেশি ছোট রাস্তা বেহাল, শাসক দলের গোষ্ঠী কোন্দলে স্তব্ধ সংস্কার
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: কেশপুর ব্লকে এক হাজারের বেশি ছোট রাস্তার দশা বেহাল। যার ফলে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মানুষকে। পঞ্চায়েত সমিতি চাইছে, কেশপুর বিধানসভার বিধায়ক শিউলি সাহা তাঁর তহবিল থেকে রাস্তা সারাতে টাকা দিন। এতে উপকৃত হবে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। কিন্তু বিধায়ক স্বয়ং পঞ্চায়েত সমিতির কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এর ফলে রাস্তা সংস্কার নিয়ে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। যা মোটেই ভালো চোখে দেখছে না তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের কথায়, কেশপুর ব্লকে দিন দিন বাড়ছে গোষ্ঠী কোন্দল। ফলে যে কোনও কাজ শুরুর আগেই একাধিক বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করলেও তৃণমূল নেতাদের মধ্যে মিলমিশ নেই। একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে ব্যস্ত। কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গড়াই বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বড় বড় রাস্তার কাজ হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু প্রচুর ছোট রাস্তার সংস্কার বাকি। অনেক গ্রামবাসী মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ফোন করে রাস্তার সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। বিধায়ক সহযোগিতা করলে অনেকটাই উপকার হবে। কেশপুরের বিধায়ক বলেন, দেখলাম ছোট রাস্তা তৈরি করতে কম করে ৮ লক্ষ টাকা খরচ। আমার টাকা আমি ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভাগ করে দিই। আমি বহু প্রকল্পে টাকা দিয়েছি। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির উচিত নিজেদের ফান্ড তৈরি করা। ওঁকে প্রশ্ন করা উচিত, উনি তো পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা পাচ্ছেন, তা দিয়ে উনি কী করছেন। 
Advertisement
প্রসঙ্গত, বাম আমলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল কেশপুরজুড়ে। সেই সময়ে কেশপুর ব্লকের একাধিক রাস্তা ছিল বেহাল। মেদিনীপুর থেকে কেশপুর যেতেও সমস্যায় পড়তে হতো মানুষকে। কিন্তু ২০১৬ সালের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। গত কয়েক বছরে শতাধিক রাস্তার সংস্কার করেছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, বর্তমানে বহু বড় রাস্তার সংস্কার হলেও, গ্রামীণ ছোট রাস্তাগুলোর হাল খুবই খারাপ। অপরদিকে, বন্যা পরিস্থিতির জেরে কেশপুর ব্লকের বিপুল সংখ্যক ছোট রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গড়ে ৬০টির বেশি ছোট রাস্তার সংস্কার প্রয়োজন। রাস্তা বেহাল হওয়ায় গ্রামবাসীরা ব্লক অফিসে এসে অভিযোগ জানাচ্ছেন। গ্রামবাসীদের কথায়, বারংবার অভিযোগ জানিয়েও লাভ হচ্ছে না। 
কেশপুর এলাকার বাসিন্দা সুদেব মণ্ডল বললেন, রাস্তার হাল এতটাই খারাপ যে হেঁটে যেতেও সমস্যা হয়। বৃষ্টি হলে সমস্যা আরও বাড়ে। বড় রাস্তার সংস্কার হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু গ্রামীণ এলাকার ছোট রাস্তার সংস্কার প্রয়োজন। 
এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, রাস্তা সংস্কার নিয়েও স্বজনপোষণ হয়েছে। পঞ্চায়েতগুলিতে গ্রুপবাজি চলছে পুরোদমে। অনেক তৃণমূল নেতাও গোষ্ঠী কোন্দলের জন্য ক্ষুব্ধ। 
জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, কেশপুর ব্লকে বহু রাস্তার কাজ হয়েছে। ধাপে ধাপে আরও বেশকিছু রাস্তা সংস্কার হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার নির্দেশে বাঁধ সংস্কারের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। কেশপুর ব্লকে ঢালাও উন্নয়নের কাজ হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ