Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাশ্মীরের ডাল লেকের মতো বাঁশদহ বিলেও চলবে শিকারা  

কাশ্মীরের ডাল লেকের মতো বাঁশদহ বিলেও চলবে শিকারা
 
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুখেন্দু পাল, নাদনঘাট: মায়াপুর বা নবদ্বীপে বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। নবদ্বীপের পাশেই রয়েছে নাদনঘাট। মহাপ্রভু চৈতন্যদেবের চারণভূমি। তাই মায়াপুর থেকে  ভিনদেশের পর্যটকদের এই এলাকায় আরও বেশি করে টানতে এবার বাঁশদহ বিল সাজিয়ে তুলছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। কাশ্মীরের ডাল লেকের মতো এই বিলে চলবে শিকারা। বিলের চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছ। এক প্রান্তে ডেরা বেঁধে রয়েছে ভিনদেশি পাখির দল। সূর্যের আলো ফোটার আগেই  পাখির কলতান আর সবুজ ক্ষেত পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। বিলের পাড়ে ছোট ট্রয়ট্রেন চালানোর প্রস্তাবও রয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, এমনিতেই এই বিল দেখতে সারা বছর পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। নাদনঘাট থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে চৈতন্যে মহাপ্রভুর নানা স্মৃতি। এখানে আসার পর পর্যটকরা সেসব জায়গায় ঘুরতে যান। এই বিল সাজিয়ে তুললে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। সেই কারণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাইরের পর্যটকদের থাকার জন্য হোমস্ট তৈরি করা হবে। শিকারা এবং টয়ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, এখানে কোনও কিছুই কৃত্রিম নয়। সবটাই প্রাকৃতিক। কেরলে এরকম জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে পর্যটন কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। আমরাও এখানে তেমনভাবেই সাজিয়ে তুলব। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, এমন সৌন্দর্য খুব কম জায়গাতেই রয়েছে। এই জায়গা বিদেশি পর্যটকদেরও মন জয় করবে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নাদনঘাট এলাকার এই বিলের চারপাশ একসময় ঝোপজঙ্গলে ভর্তি ছিল। পরে রাজ্যের মন্ত্রীর উদ্যোগে চারপাশের পাকা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। বিলের বিভিন্ন ধরনের চুনো মাছও চাষ হচ্ছে। বাইরের পর্যটকরা এই এলাকায় আসেন। তাঁরা কিছুক্ষণ থেকেই ফিরে যান। কিন্তু এই বিলের শিকারা চালু হলে তা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। পর্যটকরা শুধু এই এলাকা ঘোরার জন্যই আসবেন। প্রতিবছরই এই বিলের চারপাশে মেলা বসে। তা দেখার জন্য বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা ভিড় করেন। বুধবার থেকে সেই মেলা শুরু হয়েছে। স্বপনবাবু বলেন, এই বিল ঘিরে নানা রকম পরিকল্পনা রয়েছে। সবই ধাপে ধাপে রূপায়ণ করা হবে। এই বিলে বিভিন্ন ধরনের মাছ সংরক্ষণ করা রয়েছে। প্রতিবছর এখানে  ভিনদেশি পাখির দল আসে। তাদের যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয় স্থানীয় বাসিন্দারা তা দেখেন। বিলের একপাশে কচুরিপানায় তারা ঘর বাঁধে। শান্ত এলাকা হওয়ায় এই বিলে পরিয়ায়ী পাখির সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। সূর্যের আলো ডোবার আগেই পাখিরা ডানা মেলে উড়তে থাকে। সেই দৃশ্য নজর কাড়ে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ