Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কুয়াশাকে ঢাল করে ফের সীমান্তে পাচারের রমরমা

কুয়াশাকে ঢাল করে ফের সীমান্তে পাচারের রমরমা
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পাচারের বাড়বাড়ন্তে ঘুম ছুটেছে সীমান্তরক্ষীদের। শীতের শুরুতেই কুয়াশার বাড়বাড়ন্তে দৃশ্যমানতা কমে যাচ্ছে। তাতেই পোয়া বারো পাচারকারীদের। খোলা সীমান্ত দিয়েই সিরাপ, মশলা ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাচার করা হচ্ছে। এদেশ থেকে সীমান্ত পার হলেই পণ্য সামগ্রী চড়া দামে বিকোচ্ছে ওপার বাংলায়। কুয়াশাকে ঢাল করেই বাড়ছে পাচারের রমরমা। বিএসএফের দাবি, কুয়াশার জন্য নাইটভিশন, বাইনোকুলার, লাইট, ক্যামেরা কিছুই কাজ করছে না। ভোর রাত ও সকালের ঘন কুয়াশায় পাঁচ ফুট দূরের বস্তুও কোনওভাবে নজরে আসছে না। আর এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে সীমান্তের পাচারকারীরা। 
Advertisement
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেকসময় পাচারকারীদের হাতে দা, লোহার রড, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র থাকছে। পাচারে বাধা পেলে তারা হামলা চালাতে পিছুপা হচ্ছে না। গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকবার আক্রান্ত হয়েছে বিএসএফ। আত্মরক্ষার তাগিদে কখনও কখনও গুলিও চালাতে হয় জওয়ানদের। দু’ সপ্তাহ আগে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এক কোটিরও বেশি টাকার নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করেছে পুলিস। কুয়াশা পড়তেই সীমান্তে ব্যাপকভাবে সিরাপের কারবার চলছে।
জানা গিয়েছে, ভারতীয় বাজারে যে ১০০মিলিলিটার কাশির সিরাপের বোতলের দাম মাত্র ২০৩ টাকা। সেই সিরাপ বাংলাদেশে পাচার করতে পারলেই মিলছে ৮০০ টাকা। চারগুণ মুনাফার লোভে সীমান্তের কারবারিরা উঠে পড়ে এই সিরাপ পাচারের কাজে নেমেছে। 
এই মরশুমে বাংলাদেশে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সিরাপ। শীতের আগেই কয়েক গুণ বেড়ে যায় তার দাম। ফলে কয়েক বছর ধরেই এই সিরাপ পাচারের রমরমা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে নেশার জন্য এই সিরাপের যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। বাংলাদেশে মদের উপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেই কারণে নেশাগ্রস্তরা বিভিন্ন উপায় খুঁজে নেয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে সক্রিয় মুর্শিদাবাদ সীমান্তের দুষ্কৃতীরা। বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাঠিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি যাচ্ছে জিরে সহ অন্যান্য গুঁড়ো মশলা। সীমান্ত পার হলেই এক এক প্যাকেটের মশলার দাম বেড়ে যায় কয়েক গুণ। 
সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও জেলা পুলিসের কড়াকড়িতে এমনিতেই রানিনগর, সাগরপাড়া, লালগোলা, জলঙ্গি সীমান্তে পাচারের বাড়বাড়ন্ত অনেকটাই কমেছে। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় পাচার খুব একটা চোখে পড়ে না। তবে শীতের কুয়াশার আড়ালে পাচার চলে রমরমিয়ে। এমনটাই দাবি সীমান্তের মানুষের। এই সময়টার জন্য পাচারকারীরা অপেক্ষা করে থাকে। খারাপ আবহাওয়া হলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। কারণ, সেই সময় বিএসএফের পক্ষে নজরদারি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। কুয়াশায় বিএসএফ দূরের পাচারকারীদের দেখতে পায় না। আর এই সুযোগে সীমান্তে শুরু হয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের পাচার। তবে বিএসএফ মাঝেমধ্যে পাচারকারীদের হাতেনাতে ধরেও ফেলছে।  জওয়ানদের দাবি, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু কিছু জায়গায় কোনও কাঁটাতার নেই। খোলা মাঠের এক প্রান্তে বাংলাদেশ অপর প্রান্তে ভারত। কুয়াশাকে ঢাল করে সহজেই মাঠ পারাপার করা যায়। এই সময় নজরদারিতে সমস্যা হয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে পাচারকারীরা। সাগরপাড়া সীমান্তের এক বাসিন্দা বলেন, এ বছর ভরা বর্ষায় ভালো রকম পাচার হয়েছিল। কুয়াশা বাড়তেই পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ