নিজস্ব প্রতিনিধি, কাশীজোড়া: কাশীজোড়া পঞ্চায়েত এলাকায় আদিবাসী ভোট নিজেদের ঝুলিতে টানতে মরিয়া শাসকদল। ওই এলাকায় প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার আদিবাসী। তাঁদের ভোট পেতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই শালবনী ব্লকের কাশীজোড়ার বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়ালেন তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা। এদিন তৃণমূলের প্রচার ঘিরে দলীয় কর্মীদের উন্মাদনা তুঙ্গে ছিল। তৃণমূল প্রার্থী প্রচারের পাশাপাশি কর্মীদের সঙ্গে ভোট-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনাও করেন। শাসকদল কাশীজোড়ায় কোমর বেঁধে প্রচারে নামলেও ময়দানে নেই বিজেপি। স্থানীয়রা জানান, বিজেপির তরফে এলাকায় ঝাণ্ডা লাগানো ছাড়া সেভাবে প্রচার নজরে পড়েনি। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস অবশ্য বলেন, বিভিন্ন এলাকায় এখনও রাস্তার সমস্যা রয়েছে। তৃণমূল নেতারা শুধু দুর্নীতি করতে ব্যস্ত। বিজেপিই ভোটে জিতবে।
Advertisement
কাশীজোড়ার বাসিন্দা শ্যামল মণ্ডল বলেন, এলাকায় রাস্তার সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়েছে। বহু এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা আর নেই। এই এলাকায় তৃণমূল বেশ ভালোই প্রচার করছে। কিন্তু বেশ কিছু এলাকায় বিজেপি পতাকা লাগালেও প্রচারে নেই। সিপিএম ও কংগ্রেসের প্রচার আরও তলানিতে। এদিন প্রচারে বেরিয়ে সুজয়বাবু বলেন, প্রচারে মানুষের উন্মাদনা দেখে আমি আপ্লুত। বহু মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমাকে আশীর্বাদ করছেন। তার অন্যতম কারণ, গ্রামের মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এতে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ হয়েছে। সেইসঙ্গে মানুষ বিজেপিকে আর বিশ্বাস করছে না। কারণ ওরা শুধু মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিতে জানে। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই পঞ্চায়েতে তৃণমূল জয়ী হয়। কিন্তু এরপর থেকেই এলাকায় বিজেপির প্রভাব বাড়তে শুরু করে। ২০১৯সালের লোকসভা ভোটে এই এলাকায় পদ্ম শিবির এগিয়ে যায়। যদিও এরপর একের পর এক নির্বাচনে এই এলাকায় বিজেপি প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবু উপনির্বাচনে বেশ সতর্ক হয়ে ময়দানে নামতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, আদিবাসী সমাজের মানুষ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। প্রত্যন্ত এলাকায় পানীয় জলের সমস্যার সমাধান হয়েছে। এর ফলে দলের পায়ের তলার মাটি অনেকটাই শক্ত হয়েছে।



