Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কংসাবতীর পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু, বরাদ্দ ৬ কোটি ১০ লক্ষ

কংসাবতীর পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু, বরাদ্দ ৬ কোটি ১০ লক্ষ
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। বিনপুর-১ ব্লকের বৈতা, শালচাতুরি কুঙরপুরের বাসিন্দারা ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা করছিলেন। কংসাবতী নদীর দুই পাড় বাঁধানোর দাবি বাড়ছিল। দাবি পূরণ হতেই ভাঙন আতঙ্ক কাটছে বাসিন্দাদের। ঝাড়গ্রাম সেচদপ্তরের উদ্যোগ পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু হয়েছে। বরাদ্দ হয়েছে ৬ কোটি ১০ লক্ষ টাকা।
Advertisement
ঝাড়গ্ৰামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, বিনপুর-১ ব্লকের কংসাবতী নদীর তীরের পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু হয়েছে। সামনের বর্ষার আগেই পাড় বাঁধানোর কাজ সম্পূর্ণ হবে। উপকৃত হবেন নদী তীরবর্তী এলাকার গ্ৰামের বাসিন্দারা। বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়া হলেই কংসাবতী ফুঁসে ওঠে। প্রতিবছর নিয়ম করে কৃষিজমি ও জনবসতি এলাকা প্লাবিত হয়। পাড়ের নরম মাটি ঝুপঝাপ করে সারাবছর ধরে ধসে পড়ে। ‘নদীর পাড়ে বাস বিপদ বারো মাস’ এই প্রবাদ যেন গ্ৰামবাসীদের কাছে সত্যি হয়ে ওঠে। বিনপুর-১ ব্লকের দক্ষিণ দিকে কংসাবতী বাঁক নিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য ঋতুতে জল কম থাকলেও পাড় ভাঙার বিরাম নেই। পাড় ভাঙনের জেরে উর্বর চাষের জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছিল। এবার  ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা বাড়ছিল। বৈতা গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকার যশপুর, বৈতা, নয়াপাল, বালিশিরারগ্ৰামের বাসিন্দারা এবার ভিটেমাটি হারানোর  আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছিলেন। রামজীবনপুর, ফিরিঙ্গিটোলা, টিকারামপুর, বাঁশকোণা পাইরাগুড়ি, শালচাতুরি কাঞ্চনগরের মতো গ্ৰামগুলিতেও আতঙ্ক বাড়ছিল। কুঙরপুর গ্ৰামের বাসিন্দা হরেকৃষ্ণ দেশালী বলেন, নদী গ্ৰামের খুব পাশ দিয়ে বয়েছে। দক্ষিণদিকের চাষযোগ্য জমি আগেই নদীর তলায় গিয়েছে। এবার ভিটেমাটি ছাড়ার আশঙ্কা করছিলাম। পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি বোধ করছি। বালিশিরা গ্ৰামের বাসিন্দা সঞ্জয় চালক বলেন, পাড় বাঁধানোর দীর্ঘদিন দাবি ছিল। পঞ্চায়েত, ব্লক ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। অবশেষে দাবি পূরণ হওয়ায় ভালো লাগছে। এই উদ্যোগে জমি, বাড়িঘর রক্ষা পাবে। 
বৈতা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেফালি সরেন বলেন, কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় এই এলাকার বহু কৃষক সর্বস্বান্ত হয়েছেন। নদীর পাড় ভাঙায় গ্ৰামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছিল। নদীর গা ঘেঁষে থাকা গ্ৰামের বাড়িঘর তলিয়ে যাবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু হওয়ায় গ্ৰামবাসীরা খুশি প্রকাশ করছেন। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই এলাকায় পাড় বাঁধানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিছুটা দেরি হলেও প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়েছে। জেলা সেচদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার নমিত সরকার এদিন বলেন, বিনপুর-১ ব্লকের প্রায় ১ কিমি ৮২৫ মিটার নদীর পাড় ভাঙন রোধে ৬ কোটি ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। আগামী বর্ষার আগে কাজ শেষ হয়ে যাবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ