Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কিরীটেশ্বরীতে একমাসব্যাপী পৌষমেলার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

কিরীটেশ্বরীতে একমাসব্যাপী পৌষমেলার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, লালবাগ: আগামী মঙ্গলবার থেকে নবগ্রামের কিরীটেশ্বরীতে একমাসব্যাপী পৌষ মেলা শুরু হতে চলেছে। এই মুহূর্তে মেলার শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে। ব্যবসায়ীরা মেলার মাঠে আসতে শুরু করেছেন। স্টল সাজানো হচ্ছে। প্রস্তুতি দেখতে কিরীটেশ্বরী সহ আশপাশের গ্রাম থেকেও মানুষ মেলার মাঠে ভিড় করছেন।
Advertisement
আজিমগঞ্জ-হাওড়া শাখায় রয়েছে ডাহাপড়া ধাম হল্ট স্টেশন। এই স্টেশন থেকে কিরীটেশ্বরী মন্দিরের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। হল্ট স্টেশনে নেমে টোটো বা অন্য গাড়িতে খুব সহজেই কিরীটেশ্বরী মেলায় আসা যায়।
মেলা উপলক্ষ্যে ভিনরাজ্য ও এরাজ্যের নানা প্রান্তে থাকা গ্রামের মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। ফলে কিরীটেশ্বরী ও আশপাশের গ্রামে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। মেলা উপলক্ষ্যে অনেক গ্রামবাসীর বাড়িতে আত্মীয়রাও এসেছেন।
মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানার কিরীটেশ্বরী মন্দির ৫১ সতীপীঠের অন্যতম। তবে অনেকে একে উপপীঠ বলে থাকেন। গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রক কিরীটেশ্বরী গ্রামকে দেশের সেরা পর্যটন গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিরীটেশ্বরী মন্দিরে সারাবছর ধরেই ভক্তসমাগম হয়। তবে পৌষ মেলার সময় সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার মন্দিরে ও মেলায় ভিড় উপচে পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দেবীর উদ্দেশে পুজো ও অঞ্জলি দেন ভক্তরা।
মেলা কমিটির সম্পাদক সৌমিত্র দাস বলেন, মিষ্টি, তেলেভাজা, রেস্তোরাঁ, খেলনা, স্টেশনারি, গৃহস্থালির জিনিসপত্রের স্টল বসতে শুরু করেছে। নাগরদোলা, সার্কাস, ড্রাগন ট্রেন, টয়ট্রেন, মিকিমাউস প্রভৃতি রাইড এসেছে। এটা মুর্শিদাবাদে পর্যটনের ভরা মরসুম। পর্যটকদের একাংশ মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন স্থাপত্য দেখার পাশাপাশি কিরীটেশ্বরী মেলায় আসেন। মেলা কমিটির সভাপতি অনুপ ভট্টাচার্য বলেন, গতবছর প্রচুর ভক্তসমাগম হয়েছিল। দেশের সেরা পর্যটন গ্রাম ঘোষণার পর থেকে দর্শনার্থী ও ভক্তদের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। এবারও মেলায় মানুষের ভিড় উপচে পড়বে। কিরীটেশ্বরী গ্রামের যুবক বিজয় রায় কর্মসূত্রে কেরলে থাকেন। মেলা উপলক্ষ্যে বুধবার দুপুরে বাড়িতে ফিরেছেন। তিনি বলেন, পৌষমাস পড়ার আগেই গ্রামে ফিরে আসি। অগ্রহায়ণ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর থেকেই গ্রামে ফেরার জন্য মন উৎসুক হয়ে ওঠে। মন্দিরের সেবাইত দিলীপ ভট্টাচার্য বলেন, সপ্তাহের মঙ্গল ও শনিবার মায়ের পুজো দিতে ভক্তদের ঢল নামে। সারাদিন ধরে পুজো চলে। তবে পৌষমাসের প্রতি মঙ্গলবার ভক্তদের দেবীর প্রকৃত শিলামূর্তি দেখার সুযোগ থাকে। তাই মঙ্গলবার বেশি ভক্ত আসেন।
সম্পর্কিত সংবাদ