সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের মশালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের কোচপুকুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আক্রান্ত মহিলা স্বাস্থ্য কর্মী। গত সোমবার দুপুরে কোচপুকুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্তব্যরত এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীকে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে রোগীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ওইদিন আক্রান্ত মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী ভালুকা আউট পোস্ট ও ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিস এফআইআর করলেও পাঁচদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও অভিযুক্তরা অধরা বলে জানিয়েছেন আক্রান্ত মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী। শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ওই মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী বর্তমানে কাজে যোগ দিতে পারেননি।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী সোমবার দু’ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কোবাইয়া গ্রামে। সোমবার দুপুরে অন্যতম অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রীর জন্য ওষুধ নিতে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান। ওষুধ দেওয়া নিয়ে এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। তারপর তিনি ও তাঁর ছেলে ওই মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধর করেন। আক্রান্ত মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, ওষুধ নিয়ে আমার সঙ্গে ঝামেলা করেন ওই ব্যক্তি। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্তব্যরত অবস্থায় আমাকে শারীরিক নিগ্রহ করেন ওই ব্যক্তি ও তাঁর ছেলে। আমার শ্লীলতাহানি করা হয়। আমাকে জুতো ও বাইকের হেলমেট দিয়ে আঘাত করা হয়। আমার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। স্বাস্থ্যকর্মীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে মশালদহ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। স্বাস্থ্যকর্মীর সংযোজন, আমি বিএমওএইচ এবং ভালুকা আউট পোস্টে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। পুলিস এখনও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেনি। তাঁরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বর্তমানে আমি আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই কর্মস্থলে যোগ দিতে পারিনি।বিএমওএইচ তাপসকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, কর্তব্যরত মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে থানায় ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। ভালুকা আউট পোস্টের এক পুলিস আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।



