Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

করিমপুরে রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মাটি কাটা চলছে

করিমপুরে রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মাটি কাটা চলছে
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: শীতের শুরুতেই বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহে সক্রিয় হয়ে উঠেছে করিমপুর এলাকার মাটি মাফিয়ারা। অন্য বছরের মত এবারেও দিনের বদলে রাতের অন্ধকারে দেদার মাটি কাটার কাজ চলছে। রবিবার রাতে এমনই মাটি বোঝাই দুটি ট্রাক্টর ও দুটি ডাম্পারকে আটকে পুলিসের হাতে তুলে দেয় করিমপুরের জামতলা এলাকার লোকজন। অভিযোগ, অনুর্বর বা নিচু জমি ছাড়াও আবাদি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। সেই মাটি কিনছেন ভাটা মালিকদের কেউ কেউ। করিমপুর আশেপাশের এলাকায় মাটি নিয়ে ছুটছে বড় বড় ডাম্পার কিংবা ট্রাক্টর। এলাকার বাসিন্দারা জানান, অন্ধকারে সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনের নজরে আসবে না ওই মাটি কাটার কাজ। চাষের জমি নষ্ট করে সারারাত চলে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। জেসিবি দিয়ে জমির মাটি কাটা হচ্ছে এবং ট্রাক্টর দিয়ে সেই মাটি বয়ে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়। রাতের অন্ধকারে মাটি কাটলে তার ছবিও তোলা যাবে না। এসব নানা সুবিধার জন্যই অন্ধকারকে বেছে নিয়েছে মাটি মাফিয়ারা। সরকারি কোষাগার বা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে রাজস্ব ফাঁকি দিয়েই এভাবে অবৈধ মাটি কাটার রমরমা বেড়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অধিকাংশ মাটিই চলে যায় এলাকার বিভিন্ন ইটভাটায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাক্টর মালিক বলেন, মাটি কাটার জন্য প্রত্যেক ট্রাক্টর মালিককে মাসিক তিন থেকে চার হাজার টাকা দিতে হয় স্থানীয় পুলিসকে। তাদের টাকা না দিলে মাটি কাটার অনুমতি মেলে না। ওই এলাকার এক ইটভাটা মালিক সুভাষ সাহা বলেন, ইট তৈরিতে তো মাটি লাগবেই। এখন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইচ্ছুক মালিকের রায়তি সম্পত্তি থেকে দেড় মিটার মাটি কাটা যাবে। আমরা নিয়ম মেনেই মাটি কিনে থাকি এবং নিচু বা চাষাবাদ হয়না এমন জমির মাটি কাটতে হয়। বেশিরভাগ ইটভাটা মালিক সরকারি নিয়ম মেনে মাটি সংগ্রহ করেন। কেউ কেউ মাটি মাফিয়াদের কাছে মাটি কেনেন। তাছাড়া বাড়ি নির্মাণে বা নিচু জমি ভরাট করতেও ট্রাক্টর বোঝাই করে প্রচুর মাটি যায়। কিন্তু মানুষ জানে সব মাটিই ইটভাটায় যাচ্ছে। 
Advertisement
করিমপুর ১ ব্লকের বিএলএলআরও সুমন পাল বলেন, মাটি কাটার খবর পেলেই আমরা সেখানে যাই। মাটি বোঝাই ট্রাক্টর ধরি। সোমবারেও মাটি কাটার জন্য কেস ও জরিমানা করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া মাটি কাটলে ৪ ডি ধারায় এফআইআর করার কথা। রাস্তায় মাটি বোঝাই গাড়ি ধরলে আইন অনুযায়ী ২ বছরের জেল ও মাটি অনুযায়ী জরিমানা হয়। কেউ যদি দু’বছরের জেলের বদলে কম্পাউন্ড জরিমানা দেয় তবে তাকে জেলে যেতে হয় না। তবে এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার ব্যাপারে আমাদের ব্যাপক নজর রয়েছে। 
কখনও এমন ঘটনা ঘটলেই কড়া পদক্ষেপ কড়া হবে। জেলা পুলিসের অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ জানান, পুলিসের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার কোনও অভিযোগ পেলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ