Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

করিমপুরে রাসযাত্রা উপলক্ষ্যে স্থানীয়দের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে

করিমপুরে রাসযাত্রা উপলক্ষ্যে স্থানীয়দের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: শুক্রবার শুরু হচ্ছে রাসযাত্রা। তার আগে এই উৎসব নিয়ে চরম ব্যস্ততা শুরু হয়েছে করিমপুরের মানিকপুর শ্মশান লোকনাথ সেবাশ্রম সঙ্ঘে। অন্যান্য বছরের মত এখানে এবারও ৩১ বছরের পুরনো এই রাস উপলক্ষ্যে জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। মাঠে নাগরদোলা ও দোকান তৈরির তোড়জোড়ের পাশাপাশি স্থানীয় মন্দিরে প্রায় বিশ জন শ্রমিক মাটির পুতুল তৈরি করছেন। মণ্ডপসজ্জাতে ব্যস্ত শিল্পীরা। প্রায় দেড় মাস আগে থেকে চলছে এই প্রস্তুতি। এখন সেই প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। মানিকপুর রাস উৎসবের প্রধান উদ্যোক্তা লক্ষ্মণ মণ্ডল বলেন, এখানকার রাস মেলা মানুষের অন্যতম আকর্ষণ। প্রতিবারের মত এবারও বিভিন্ন রকম থিমে সাজানো হবে রাস উৎসব। কেদারনাথ মন্দিরের আদলে বাঁশ কাপড় ও থার্মোকলের প্রধান মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। শিবমন্দিরে কেদারনাথ মন্দিরের স্বাদ মিলবে। শ্মশান চত্বরে মাটির পুতুলে হারিয়ে যাওয়া ছোট বেলার বহু খেলা তুলে ধরা হবে। যেগুলো একসময় গ্রাম বাংলার বাচ্চারা খেলত। যেমন, হা-ডু-ডু, ডাংগুলি, ঘুড়ি ওড়ানো কিংবা কাঁচের বল খেলা। এছাড়াও থাকবে মাটির বহু পশু এবং মডেল। স্থানীয় বৃহদাকার মন্দিরের রাধাকৃষ্ণের রাস যাত্রার নানাবিধ মাটির পুতুল। রাস কমিটির এক সদস্য সনৎ ঘোষ বলেন, পনেরো দিনের রাসমেলায় প্রায় দুশোটি দোকান বসে। মেলার  ক’দিন রাতে যাত্রা, বাউল ও অন্যান্য নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকে। প্রতিদিন দূরদূরান্তের ও আশেপাশের প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ রাসমেলার টানে এখানে আসেন। এই জনবহুল রাসমেলায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে বা নিরাপত্তাজনিত কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নেয় রাস কমিটি। অন্য বছরের মতো শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক থাকবে। এই মেলা কমিটিতে হিন্দু, মুসলিম ও আদিবাসী সকল সম্প্রদায়ের মানুষ যুক্ত থাকেন। করিমপুর ও আশেপাশের এলাকার মানুষ খুব নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে এই মেলায় আসতে পারেন। এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুর্গাপুজো, লক্ষ্মী বা কালীপুজোর পর শীতের শুরুতে এই রাস উৎসব ও মেলার অপেক্ষায় থাকি আমরা সকলে। এই সময়ে এলাকার হিন্দু মুসলিম সকলের বাড়িতে আত্মীয়রা বেড়াতে আসেন। 
Advertisement
যেখানে এখন এতবড় মেলা হচ্ছে সেই মানিকপুরে একসময় ছিল ঘন জঙ্গল। সেই সময় দিনের বেলাতেও মানুষ এখানে আসতে ভয় পেত। অথচ এখন এই রাস উৎসবে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি হাজার হাজার মহিলা পুরুষ ভিড় করেন। বহুদিন আগে এখানে ছোট করে রাস উৎসব হত ফার্মের মোড়ে। পরে কয়েকজন মিলে মানিকপুরে এই রাসের শুরু করেছিল। সেই রাস এখন ধীরে ধীরে বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। এখন যত দিন যাচ্ছে এই মেলা তত জনপ্রিয় হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ