সংবাদদাতা, করিমপুর: দুর্গাপুজোর পর কালীপুজোও শেষ হয়েছে। কিন্তু করিমপুরের জলঙ্গি নদীতে এখনও প্রতিমার কাঠামো সহ অন্য সামগ্রী ভাসছে। সেগুলি সরানোর বিষয়ে কারও হেলদোল নেই। এছাড়া, নদীর বিভিন্ন ঘাটে কচুরিপানা ভর্তি থাকায় স্থানীয়রা বিরক্ত। এখন পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহের ব্যবস্থা হয়েছে। তা সত্ত্বেও অনেক বাড়ির উচ্ছিষ্ট, আবর্জনা, প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ নদীতে ফেলা হচ্ছে। জলঙ্গি নদীই যেন শহরের ডাস্টবিন। এলাকার বাসিন্দারা জানান, কচুরিপানা ও আবর্জনা ফেলায় এই নদী অনেক আগেই গতি হারিয়েছে। বর্ষার সময় কিছু জল থাকলেও বছরের বাকি সময় এই নদী যেন পানাপুকুর। তার উপর এখন প্রতিমার কাঠামো পড়ে আছে। করিমপুর-২ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সোমা কর্মকার সরকার বলেন, খুব তাড়াতাড়ি ঘাটের কাঠামো ও কচুরিপানা সাফাই করা হবে। নদীতে আবর্জনা ফেলা রুখতে প্রথমে সচেতনতা প্রচার করা হবে। তারপরও কেউ আবর্জনা ফেললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল সরকার বলেন, করিমপুর ১ ও ২ পঞ্চায়েত এলাকা দিয়ে এই জলঙ্গি নদী গিয়েছে। কিন্তু নদীটি কচুরিপানায় ভরে থাকে। এমনিতেই জলঙ্গির উৎসমুখ বন্ধ হয়েছে। মাটির তলা থেকে উঠে আসা সামান্য জল থাকে। কিন্তু মানুষের অত্যাচারে নদী যেভাবে মজে যাচ্ছে, তা সত্যিই চিন্তার বিষয়। নদীর পাড়ে কংক্রিটের সিঁড়ি বাঁধানো ঘাট থাকলেও বছরের বেশিরভাগ সময় জল না থাকায় আর কচুরিপানার কারণে স্নান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাড়ির আবর্জনার পাশাপাশি এই নদীতে প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। নদীর বিভিন্ন ঘাটে বিজয়া দশমীর পরে লক্ষ্মী, কালী প্রতিমারও বিসর্জন হয়েছে। কিন্তু এখনও অবধি সেসব পরিষ্কার করা হয়নি। এব্যাপারে প্রশাসনের হুঁশ নেই।
জলঙ্গি বাঁচাও কমিটির সম্পাদক শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে কৃষ্ণনগর শহর ও তেহট্টে পরিবেশবান্ধব নিরঞ্জন হয়েছে। প্রতিমা নিরঞ্জনের পর তুলে ফেলা হয়েছে। কিন্তু করিমপুরে জলঙ্গির অবস্থা খুব খারাপ। ওখানে নদীর উপর অবৈধ নির্মাণও চলছে। প্রশাসন সেসব বন্ধ করে নদী সাফাই না করলে জলঙ্গির যেটুকু এখনও রয়েছে-সেটাও ভবিষ্যতে থাকবে না।



