সংবাদদাতা, করিমপুর: একসময় যে পান চাষ ছিল করিমপুর সীমান্ত এলাকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থকরী ফসল, এখন তা বন্ধের মুখে। দিনের পর দিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাধ্য হয়েই পান চাষ বন্ধ করছেন সীমান্তের পান চাষিরা। গত দশ বছরে আবহাওয়া ও দাম না পাওয়ার কারণে পান চাষের পরিমাণ কমে এক চতুর্থাংশে নেমেছে। করিমপুরের পান চাষিরা জানান, ১৯৮৮ সালে করিমপুর ১ ও ২ ব্লক এলাকায় মত প্রায় পাঁচশো হেক্টর জমিতে পান চাষ হতো। কিন্তু সেই পান চাষ বেড়ে ২০০৩ সাল নাগাদ সর্বাধিক ১১০০ হেক্টর হয়েছিল। সেই সময় প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার ঝুড়ি (প্রতি ঝুড়িতে দশ হাজার) পান বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হতো। পান চাষিদের পাশাপাশি আর্থিক ভাবে চাঙ্গা হয়েছিল এলাকার সব শ্রেণির মানুষ। তখন বেশি অর্থের টানে অন্য চাষ থেকে এসে অনেকেই পান চাষ শুরু করেছিলেন। এলাকার পান চাষির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় আট হাজার হয়েছিল। চল্লিশ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পান চাষের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। এখানকার পান ট্রাক বোঝাই হয়ে বর্ধমান ষ্টেশন ও সেখান থেকে রেলপথে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি হতো। এছাড়াও পাইকারি পান ব্যবসায়ীরা উত্তর দিনাজপুর, রানাঘাট, মুর্শিদাবাদ থেকে করিমপুরে পান কিনতে আসতেন। এখন পান চাষ কমতে কমতে প্রায় তিনশো হেক্টরে ঠেকেছে। করিমপুর উদ্যান ও কৃষি কল্যাণ সমিতির সম্পাদক বিশ্বনাথ বিশ্বাস বলেন, এলাকার অর্থকরী ফসলের মধ্যে পাটের পরেই পানের স্থান। অথচ বরাবর অবহেলিত হয়েছে এই পান চাষ। সরকারি সাহায্য নেই, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পান চাষিরাও আর্থিক সাহায্যও পান না।
Advertisement
এক বিঘা পান চাষে সারা বছরে এক হাজার মানুষ কাজ পায়। এত শ্রমদিবস অন্য কোনও চাষে নেই। তবুও পান চাষিদের দিকে সরকারের নজর নেই। এলাকার বেশিরভাগ প্রান্তিক চাষি। তাঁরা অন্যের জমিতে পানচাষ করার জন্য সরকারি ঋণের সাহায্য পান না। পান চাষে বিমার ব্যবস্থাও নেই। করিমপুরের পান চাষি আনন্দ মণ্ডল বলেন, এভাবে আর্থিক ক্ষতি সামলাতে না পেরে অনেকেই পান চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। কয়েক বছর আগে আমার দুই বিঘা জমি থেকে বছরে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার পান বিক্রি করতাম। এখন পান বিক্রি করে সারা বছরের শ্রমিকের খরচই ওঠে না। সংসার চালাতে না পেরে বাধ্য হয়ে অনেকেই ভিন রাজ্যে যাচ্ছেন কাজ করতে। এলাকায় পান চাষ নষ্ট হওয়ার জন্য শুধু পানচাষি নন, সমস্যায় পড়েছেন পান ব্যবসায়ী থেকে ঝুড়ি শ্রমিক সকলেই। এলাকার পান চাষ আবার ঘুরে না দাঁড়ালে খুব তাড়াতাড়ি আর্থিক সঙ্কটে পড়বেন বহু মানুষ।



