Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

করিমপুরে মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলি ধুঁকছে শিক্ষকের অভাবে, কমছে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা

করিমপুরে মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলি ধুঁকছে শিক্ষকের অভাবে, কমছে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: ২০১০ সালে শেষবারের মতো শিক্ষক নিয়োগ হলেও তারপর প্রায় চোদ্দ বছর আর কোনও শিক্ষক নিয়োগ হয়নি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রগুলিতে। এই সময়ের মধ্যে প্রচুর শিক্ষক অবসর নিয়েছেন। ফলে জেলার পাশাপাশি করিমপুরের মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতেও (এমএসকে) শিক্ষক সঙ্কট চলছে। সেই সঙ্গে স্কুলে কমেছে পড়ুয়ার সংখ্যা। তাই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষকের অভাবে মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলি ধুঁকছে। 
Advertisement
হোগলবেড়িয়ার কুমরি নরেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক আক্কাস আলি শেখ জানান, ২০০৪ থেকে এই স্কুল চলছে। তখন এখানে শিক্ষক সংখ্যা ছিল ২ জন, পরের বছর আরও ২ জন ও তারপরের বছর আরও ২ জন নিয়োগ হয়। ২০০৭-০৮ সালে এই স্কুলে যেমন ৬ জন শিক্ষক ছিলাম, তেমনি ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও ছিল ২৩৯ জন। ২০২২ সালে মোজাম্মেল হক নামে এক শিক্ষক মারা যান এবং সুনীল মণ্ডল নামে এক শিক্ষক অবসর নিয়েছেন। সেই জায়গায় আর কাউকে নিয়োগ করা হয়নি। এখন এই স্কুলে মোট ৪ জন শিক্ষক এবং ছাত্রসংখ্যা মাত্র ৪৬। আরও খারাপ অবস্থা আরবপুর মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের। ওই স্কুলে বর্তমানে মাত্র ২ জন শিক্ষক রয়েছেন এবং ছাত্র রয়েছে ৬৫ জন। শিক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জিত কুমার সরকার বলেন, ২০০৫ সালে মোট শিক্ষক ছিলেন ৬ জন এবং ওই সময় ছাত্র সংখ্যা ছিল ২৭৪ জন। বিগত সময়ে চারজন শিক্ষক অবসর নিয়েছেন। কিন্তু নতুন শিক্ষক না আসায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। দু’জন শিক্ষকের পক্ষে চারটি ক্লাস সঠিকভাবে নেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের এসএসকে থেকে সরিয়ে নিয়ে একটু দূরে হলেও পাশের স্কুলে ভর্তি করে দিচ্ছেন। পঠনপাঠনের গুণগত মান কমছে বলে অভিযোগ। সেই কারণেই কমছে পড়ুয়ার সংখ্যাও। গত মে মাসে একজন শিক্ষক ও অক্টোবর মাসে আমি অবসর নেওয়ার পর স্কুলে অন্য স্কুল থেকে শিক্ষক এনে চালানো হচ্ছে। এরপর কী হবে সেটাই চিন্তার। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০১ সালে সর্বশিক্ষা অভিযান প্রকল্পের সূচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার। নদীয়া জেলায় প্রায় ১০২টি এবং করিমপুর ১ ব্লক এলাকায় আটটি এমএসকে চালু করা হয়। উদ্দেশ্য, যে সমস্ত এলাকায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনও হাইস্কুল বা জুনিয়র হাইস্কুল নেই, সেখানে ৯-১৪ বছরের শিশুদের শিক্ষার জন্য এমএসকে চালু করা হয়েছিল। ২০০৩ সালে এমএসকে শুরু হওয়ার সময় এলাকার শিক্ষিত, চল্লিশোর্ধ্ব বেকার ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হয়। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, আগে এমএসকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অধীনে ছিল। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে সেগুলি শিক্ষাদপ্তরের হাতে চলে এসেছে। কিন্তু তারপরেও স্কুলগুলোর সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি, তবে খুব শীঘ্র সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সম্পর্কিত সংবাদ