Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান প্রসব

করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান প্রসব
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: দক্ষ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের অভাবে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে বেশ কয়েক মাস ধরে সিজারিয়ান প্রসব বন্ধ বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। যদিও অ্যানাস্থেটিস্ট, ঝকঝকে অপারেশন থিয়েটার সবই রয়েছে এই হাসপাতালে। এমনকী একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞও রয়েছেন। যদিও হাসপাতালের সুপার মণীষা মণ্ডল জানালেন, এক সপ্তাহ আগে তেহট্ট থেকে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকে সপ্তাহে একদিন করে আনার ব্যবস্থা হয়েছে। গত সোমবার তিনি এসেছিলেন, যদিও সেদিন কোনও প্রসব হয়নি। 
Advertisement
এদিকে সিজার বন্ধ যার ফলে এলাকার প্রসূতি মহিলাদের ছুটতে হচ্ছে দূরের হাসপাতালে। কেউ যাচ্ছেন চল্লিশ কিমি দূরে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে, কেউ পঁচাশি কিমি দূরের কৃষ্ণনগর বা সত্তর কিমি দূরের বহরমপুরের কোনও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে। একসময় সপ্তাহে তিনদিন এই হাসপাতালে সিজার প্রসব করা হতো। এলাকার মানুষরা জানান, এই হাসপাতালে জেনারেল ফিজিসিয়ান ও একজন দন্ত চিকিৎসক ছাড়া কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এমনকী কোনও শিশু বিশেষজ্ঞও নেই। ফলে সমস্যায় পড়লে প্রায় সবাইকে দূরে ছুটতে হয়। শুধু এবার নয়, এখানে বেশ কয়েকবার সিজার চালু হয়েও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হাসপাতাল সুত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৫৩ সালে তৈরি এই গ্রামীণ হাসপাতালের উপর বর্তমান করিমপুরের আশেপাশের ও মুর্শিদাবাদের ডোমকল মহকুমার প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ নির্ভর করেন। ২০০৯ সালে প্রথম অপারেশন থিয়েটারে সিজার চালু হয়েছিল। সেই সময় ৩৪ জন প্রসূতির সিজার করা হয়েছিল। তারপরে কয়েকবার সিজার চালু হয়েছে, আবার বন্ধও হয়ে গিয়েছে। অথচ প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচজন গর্ভবতী মহিলা সন্তান প্রসবের জন্য এখানে আসেন। হাসপাতালে সিজার বন্ধ হওয়ার কারণে সাধারণ প্রসব ছাড়া বাকি প্রসূতিদের দূর-দূরান্তের হাসপাতালে রেফার করা হয়। এক চিকিৎসক জানান, এলাকার মানুষের অসুবিধার কথা ভেবে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের সহযোগিতায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে নতুন করে এই হাসপাতালে সিজার চালু করা হয়েছিল। সাধারণ প্রসবের পাশাপাশি একজন অ্যানাস্থেটিস্ট ও দুজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের দ্বারা সপ্তাহের তিনদিন সিজার করা হতো। পরবর্তীতে লক ডাউনের সময় আবার এই হাসপাতালে সিজার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে ফের তা চালু হলেও আবারও দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ, অনেক সময় চিকিৎসকরা স্বাভাবিক প্রসব হবে বললে গর্ভবতী মায়েদের এখানে ভর্তি করা হয়। কখনও স্বাভাবিক প্রসবকালীনও বড় সমস্যায় পড়তে হয়। তখন শেষ মুহূর্তে বাইরে রেফার করলে রোগীকে নিয়ে ছোটাছুটিতে সংকট আরও বাড়ে। চিকিৎসকের অভাবে মাঝে সিজার বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে নিয়ে হাসপাতালের সুপার জানান, প্রসূতি ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। বেশিরভাগ স্বাভাবিক প্রসব হচ্ছে। তবে কোনও রোগীর জটিল সমস্যা থাকলে ঝুঁকি না নিয়ে রেফার করতেই হয়। তবে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতাল থেকে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এসে সপ্তাহের প্রতি সোমবার সিজার শুরু করেছেন। নতুন একজন চিকিৎসককে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য স্বাস্থ্যভবনে জানানো হয়েছে। যাতে স্থায়ীভাবে সিজার চালু করা যায় এবং প্রসূতিদের দূরে কোথাও ছুটতে না হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ