সংবাদদাতা, করিমপুর: প্রায় ছয় বছর ধরে কোনও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নেই করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। বাধ্য হয়ে রেফার করা রোগীকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে যেতে হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থায়ী চালক না থাকায় এই হাসপাতালের একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বছর চারেক পড়ে ছিল। সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যাওয়ায় বছর দেড়েক আগেই সেই অ্যাম্বুলেন্সটি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও প্রাক্তন সাংসদের দেওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সও এখন হাসপাতাল চত্বরে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের পরিষেবা পাচ্ছেন না এলাকার সাধারণ মানুষ। তাই কয়েক বছর থেকেই রোগীদের ভরসা শুধুই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স। হাসপাতাল থেকে রেফার হওয়া রোগীকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাড়তি কয়েক গুণ টাকা খরচ করতে হচ্ছে রোগীর পরিবারকে। হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি চালু থাকাকালীন মাত্র ১২০০ টাকায় করিমপুর থেকে রোগীকে কৃষ্ণনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সুবিধা হতো। অথচ এখন কোনও রোগীকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যেতে খরচ দিতে হচ্ছে তিন হাজার টাকা। একইভাবে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে কলকাতার ভাড়া ৭-৮ হাজার, কল্যাণী যেতে ৫ হাজার, তেহট্ট বা ডোমকলে যেতে গুনতে হচ্ছে ১৮০০ টাকা। করিমপুরের বাসিন্দা মিঠু অধিকারী বলেন, জেলার সীমান্ত এলাকার এবং মুর্শিদাবাদের একটা অংশের প্রায় ছয় লক্ষ মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন এই হাসপাতাল থেকে বহু রোগীকে জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। অথচ সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা কেউ পান না। খারাপ হয়ে যাওয়া সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও বছর দশেক আগে তৎকালীন সাংসদ মান্নান হোসেন তাঁর সাংসদ তহবিল থেকে করিমপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হাতে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছিল। যে অ্যাম্বুলেন্সটি ওই পঞ্চায়েতের পরিচালনায় করিমপুর হাসপাতালের রোগী পরিষেবার কাজ করত। ২০১৮ সালের পর থেকে সেটিও হাসপাতাল চত্বরে অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
Advertisement
হাসপাতালের এক কর্মী জানান, পরিকাঠামো ও চিকিৎসকের তুলনায় করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের রোগীর চাপ অনেক বেশি এবং প্রতিদিন এখান থেকে রোগীকে রেফার করতে হয়। রেফার হওয়া রোগীকে বিরাশি কিমি দূরে কৃষ্ণনগর কিংবা সত্তর কিমি দূরে বহরমপুরে যেতে হয়। এলাকার মানুষের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত এই হাসপাতালে একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা, যাতে এলাকার মানুষ কম খরচে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেন।
করিমপুর হাসপাতালের সুপার মনীষা মণ্ডল জানান, বছর পাঁচেক আগে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের একমাত্র চালক অবসর নেওয়ার পর কোনও চালক না থাকায় ওই অ্যাম্বুলেন্সটি চালানো সম্ভব হয়নি। পরে ওটা জেলা অফিসে নিয়ে গিয়েছে। নতুন একজন চালক সহ একটি অ্যাম্বুলেন্স এই হাসপাতালে দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
করিমপুর হাসপাতালের সুপার মনীষা মণ্ডল জানান, বছর পাঁচেক আগে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের একমাত্র চালক অবসর নেওয়ার পর কোনও চালক না থাকায় ওই অ্যাম্বুলেন্সটি চালানো সম্ভব হয়নি। পরে ওটা জেলা অফিসে নিয়ে গিয়েছে। নতুন একজন চালক সহ একটি অ্যাম্বুলেন্স এই হাসপাতালে দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।



