সংবাদদাতা, করিমপুর: গত চারমাস বেতন পাননি ব্লকের গ্রামীণ সম্পদ কর্মী (ভিআরপি) এবং পতঙ্গ বাহিত রোগ প্রতিরোধ বাহিনীর (ভিসিটি) কর্মীরা। চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন তাঁরা। দ্রুত বেতনের দাবি জানিয়েছেন ওই কর্মীরা। তবে আর্থিক সমস্যার মধ্যেও সরকারি প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। করিমপুর ১ ব্লক এলাকার গ্রামীণ সম্পদ কর্মী বাপন সরকার জানান, ব্লকের প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় পনেরো জন এবং করিমপুর ১ ব্লকে ১২০ জন কর্মী কাজ করেন। ব্লকের প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় গ্রামীণ সম্পদ কর্মী ও পতঙ্গ বাহিত রোগ প্রতিরোধ বাহিনী সরকারি দায়িত্ব পালন করে। সরকারি এই কাজের জন্য কর্মীদের দৈনিক ১৭৫ টাকা করে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এপ্রিল মাস থেকে দৈনিক ২৫ টাকা বৃদ্ধির কথা মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেও সেই টাকাও তাঁরা পাচ্ছেন না। আরেক গ্রামীণ সম্পদ কর্মী প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, সরকারি নির্দেশ মত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রামের মানুষকে সচেতন করা হয়। এছাড়াও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, বার্ধক্য ভাতা সহ একাধিক কাজ আমাদের করতে হয়। এখন পাওনা পারিশ্রমিক কবে পাব তা নিয়ে সকলেই উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি। সরকারি কাজ করতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু সময়মতো পারিশ্রমিক না পাওয়ার কারণে আর্থিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পতঙ্গ বাহিত রোগ প্রতিরোধ বাহিনীর সঞ্জয় নাথ, সোহেল খান বলেন, শুধু করিমপুর ১ ব্লকের কর্মীদের নয়, এই সমস্যা রাজ্যজুড়ে। বছরের ৩৬৫ দিনই কাজ করতে হয়। এমনকী ১৫ আগস্ট, ২৬ জানুয়ারি বা মে দিবসেও ছুটি নেই। পতঙ্গ বাহিত রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হয়। অন্যান্য কর্মীরা যেমন পুজোর সময়ে কিংবা অন্যান্য উৎসবে বোনাস পান আমরা তাও পাই না। প্রতি মাসের পারিশ্রমিক সেই মাসে না পাওয়ায় সংসার চালাতে কষ্ট হয়। মুখ্যমন্ত্রী গত এপ্রিল মাস থেকে ১৭৫ টাকা থেকে দৈনিক ভাতা বাড়িয়ে দুশো টাকা করেছিলেন। বর্ধিত সেই টাকাও এখনও কেউ পাইনি। এ ব্যাপারে করিমপুর ১ ব্লকের বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী জানান, কর্মীদের পারিশ্রমিক দেওয়ার বিষয়টি ব্লক প্রশাসন দেখে না। কর্মীদের বেতন না পাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।



