সংবাদদাতা, করিমপুর: কর্মী সঙ্কটের কারণে ব্যাহত করিমপুরে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প। মাস তিনেক আগে চালু হওয়া এই প্রকল্পে পরিষেবা না পেয়ে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। খুব শীঘ্র এই সমস্যা দূর হওয়ার আশ্বাস পঞ্চায়েত প্রধানের। জানা গিয়েছে, প্রতি বাড়ি থেকে নোংরা আবর্জনা সংগ্রহ করার জন্য জন্য করিমপুর ১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে করিমপুর ফার্মের মাঠে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প চালু হয়েছে। গত তিন মাস আগে এই প্রকল্প চালু হলেও কর্মী সংকট ও কয়েকজন কর্মীর মজুরি না পাওয়ায় বর্তমানে পরিষেবায় বাধা পড়ছে। করিমপুরের অভয়পুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, মাস তিনেক আগে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে একটি লাল ও একটি নীল রংয়ের বালতি ১০ টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, নীল বালতিতে পচনশীল ও লাল বালতিতে অপচনশীল দ্রব্য জমিয়ে রাখতে হবে। প্রত্যেক মাসে এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে খরচ বাবদ ২৫ টাকা করে দিতে হবে। তারপর প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বাঁশি বাজিয়ে আমাদের বর্জ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন থেকে সেই গাড়ি আর আসছে না। এক ভ্যানচালক জয়রাম দাস বলেন, এই কাজে নিযুক্ত কয়েকজন ভ্যানচালক সঠিক সময়ে তাদের মজুরি না পাওয়ার জন্য নোংরা সংগ্রহ করছেন না। মাসে চারদিন ছাড়া রোজ কাজ করতে হয়। মাসে ছ’ হাজার টাকা মজুরি হলেও কেউ কেউ দু’ মাসের মজুরি পাননি। যে কারণে কয়েকজন ভ্যান চালক আর আসছেন না। আমরা বিষয়টি পঞ্চায়েত প্রধানকে জানিয়েছি। ওই প্রকল্পের এক কর্মী জানান, নতুন চালু হওয়ায় এখন কিছু সমস্যা হচ্ছে। পচনশীল ও অপচনশীল মাল দু’টি আলাদা বালতিতে রাখার জন্য বলা হলেও অনেকে দু’ প্রকার আবর্জনা একত্রে রাখছেন। এখানে সেগুলিকে আলাদা করার মতো কর্মী নেই। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যদিও করিমপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুপর্ণা মুখোপাধ্যায় হালদার জানান, মাঝে পুজোর ছুটি থাকায় এবং সম্প্রতি পঞ্চায়েতের কর্মীরা আবাস প্রকল্পে তদন্তে ব্যস্ত থাকার জন্য কর্মীদের সময় মত মজুরি দেওয়া সম্ভব হয়নি। সোমবারের মধ্যেই সকলের মজুরি মিটিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়াও এই প্রকল্পে আরও বেশ কিছু কর্মীর প্রয়োজন। পঞ্চায়েত তাদের যে মজুরি দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই টাকায় লোক পাওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে এবং পরিষেবা সুষ্ঠুভাবে চালু হবে।



