Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কারখানার দূষণে শ্বাসরুদ্ধ গড় পঞ্চকোটের মুখ ফেরাচ্ছে পর্যটকরা, ঘরে ঘরে অ্যাজমা

কারখানার দূষণে শ্বাসরুদ্ধ গড় পঞ্চকোটের মুখ ফেরাচ্ছে পর্যটকরা, ঘরে ঘরে অ্যাজমা
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, নিতুরিয়া: দূষণের জেরে সঙ্কটে নিতুড়িয়ার ‘ফুসফুস’। আশেপাশের কারখানার কালো ধোঁয়ায় ঢেকেছে পুরুলিয়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র গড় পঞ্চকোট। প্রতিবাদ, বিক্ষোভ কোনও কিছুরই তোয়াক্কা করছে না কারখানার মালিকরা। আর সবকিছু দেখেও চোখে ঠুলি পড়ে বসে রয়েছে প্রশাসনের কর্তারাো ক্রমশই গড় পঞ্চকোটের জল-স্থল-অন্তরীক্ষে ছড়াচ্ছে কারখানার বিষ। মুখ ফেরাচ্ছেন পর্যটকরা। কয়েক বছর আগেও প্রকৃতির রূপে চোখ জুড়োনোর আদর্শ জায়গা ছিল গড় পঞ্চকোট। কিন্তু এখন গড় পঞ্চকোট গেলে শুধুই ধোঁয়া আর ধোঁয়া। নিতুড়িয়ার সড়বড়ি মোড় থেকে গড় পঞ্চকোট যাওয়ার রাস্তার দু’ ধারে গজিয়ে উঠেছে একাধিক স্পঞ্জ আয়রনের কারখানা, স্টিল প্ল্যান্ট। দূষণের সমস্যা তীব্র হয়ে উঠেছে। যার প্রভাবে নষ্ট হচ্ছে ওই এলাকার বাস্তুতন্ত্র। জানা যায়, সংরক্ষিত গড় পঞ্চকোটের পাহাড়ের জঙ্গল প্রায় ১৪০০ হেক্টর পর্যন্ত বিস্তৃত। পুরুলিয়ার মাটি থেকে এই পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ৪০০ ফুট। পাহাড়ের জঙ্গলে রয়েছে প্রচুর বনৌষধির গাছ। গড় পঞ্চকোটের এই সংরক্ষিত জঙ্গলে আছে রক পাইথন, শজারু, হায়না, খেঁকশিয়াল, খরগোশ। অথচ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে দূষণের জেরে বিপন্ন বন্যপ্রাণ। ইতিমধ্যেই প্রায় কয়েকশ’ প্রজাতির মূল্যবান ভেষজ গুণসম্পন্ন গাছ গাছালি প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। 
Advertisement
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার চিমনি থেকে গলগল করে বেরিয়ে আসা কালো ধোঁয়ায় সবসময় ঢেকে থাকছে ওই এলাকার আকাশ। গড় পঞ্চকোটের জঙ্গলের গাছের পাতা সবসময় ঢেকে থাকছে কার্বনের পুরু আস্তরণে। বাড়ির ছাদে, ঘরের মেঝেয় জমছে কালো ধুলো। কারখানার বিষাক্ত জল মিশছে আশেপাশের জমিতে। একসময় যে জমিতে সোনার ফসল ফলত, বর্তমানে সেই জমিতে চাষ হচ্ছে না। কার্বন-মিশ্রিত ঘাস খেয়ে মারা যাচ্ছে গবাদি পশুও। ঘরে ঘরে খোঁজ নিলে দেখা যায়, বায়ুদূষণের কারণে গত কয়েক দশকে অ্যাজমা, অ্যালার্জি, ফুসফুসের নানা অসুখ বেড়েছে। কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে বাড়ছে জলদূষণও। পুকুর-খালের জলে মিশছে কার্বনের গুঁড়ো। তাছাড়া, কারখানার ছাই ফেলে দেওয়া হচ্ছে রাস্তার দু’ ধারে। অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের জীবন।
নিতুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শান্তিভূষণ প্রসাদ যাদব বলেন, দূষণ রোধে আমরা বহু চেষ্টা করেছি। বহু বৈঠক করেছি। বৈঠকের পর কিছুদিন বন্ধ থাকে, তারপর আবার শুরু হয়ে যায়। পঞ্চায়েত সমিতির একক চেষ্টায় কোনও ভাবেই দূষণ বন্ধ হবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকেও সক্রিয় হতে হবে। এসইউসিআই-এর শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি নবনী চক্রবর্তী বলেন, দূষণের মাত্রায় এই কারখানাগুলি ‘রেড ক্যাটিগরি’-র অন্তর্ভুক্ত। আইন অনুযায়ী দূষণ রোধে কারখানাগুলির দূষণ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র চালানো উচিত। কিন্তু  খরচ বাঁচাতে কেউই সেই যন্ত্র চালায় না। তাছাড়া, যন্ত্রনির্ভর ওই সব কারখানায় কর্মসংস্থানও যে বিরাট কিছু হয়েছে, তাও নয়। তবুও শিল্পের নামে ভয়ঙ্কর দূষণ হয়েই চলেছে। দূষণের জন্য কে দায়ী, তা নিয়ে বিতর্কও চলছে রোজ। বাসিন্দাদের অধিকাংশই দায়ী করেছেন শাসক দলের রাজনৈতিক নেতা আর প্রসাশনকে। তবে, প্রত্যেকেই চাইছেন, নিতুড়িয়ার পরিবেশ হোক দূষণ মুক্ত।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ