নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: খাতায়কলমে নির্দেশিকা না থাকলেও, এবার যেসব ভোটারের নথি নিয়ে অবজার্ভাররা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তাঁদের থেকে ফের নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত নথি চাওয়া হচ্ছে। সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত ওই ভোটারদের নথিপত্র পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইআরও-রাই সেই কাজ করছেন। বুধবার পর্যন্ত ২ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে অবজার্ভার এবং মাইক্রো অবজার্ভাররা অবজেকশন করেছিল। শুক্রবার সেই সংখ্যাটা আড়াই লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে। যার ফলে এখনও প্রায় লক্ষাধিক ভোটারের নথি পুনরায় যাচাই করতে হবে ইআরওদের।
জানা গিয়েছে, যাচাইয়ের সময় কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে যে কোনো একটি জমা দিতে বলা হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে কেন এইভাবে নির্দিষ্ট নথি চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অবজার্ভার বা মাইক্রো অবজার্ভাররা যাঁদের নামে আপত্তি তুলেছিল, তাঁদের অধিকাংশকেই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুনানির সময়ে ওই ভোটারদের অনেকেই বিভিন্ন পরিচয়পত্র নথি হিসেবে জমা দিয়েছিলেন। কারণ, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত শুনানির জন্য নির্বাচন কমিশনের তরফে আলাদা করে কোনো নির্দিষ্ট নথির তালিকা আগে জানানো হয়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমানে নির্বাচন কমিশন আনম্যাপড ভোটার এবং লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারদের সমানভাবেই দেখছে।
এসআইআর শুরুর সময়ে আনম্যাপড ভোটারদের চিহ্নিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। যাদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, তাদের শুনানিতে আধার কার্ডের পাশাপাশি কমিশন নির্ধারিত ১৩টির মধ্যে একটি নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। তাতে দেখা যায়, বহু ভোটার কমিশনের নির্ধারিত নথি দেখাতে পারছেন না। পরবর্তীতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারদেরও শুনানিতে ডাকা হয়। নদীয়া জেলায় ৫ লক্ষ ২২ হাজার লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি ভোটার রয়েছে। যদিও তাঁদের ক্ষেত্রেও যে ১৩টির মধ্যে একটি নথি নিতে হবে, তা কমিশনের তরফ থেকে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। যার ফলে ভোটাররা পরিচয়পত্র হিসেব যে সমস্ত নথি যেমন, আধার কার্ড, রেশন কার্ড, প্যান কার্ড জমা দিয়েছিলেন, তাই দিয়েই ইআরওরা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারদের বৈধতা যাচাই করে নথিপত্র কমিশনের পোর্টালে আপলোড করেছিলেন। এবার সেই নিয়েই আপত্তি তুলেছেন রোল অবজার্ভার ও মাইক্রো অবর্জাভাররা। অনেক ক্ষেত্রেই যে সমস্ত ভোটারের বিরুদ্ধে অবজেকশন জানানো হচ্ছে, তাঁদের কাছে কমিশন নির্ধারিত নথি চাওয়া হচ্ছে। এমনিতেই আনম্যাপড ভোটারদের একটা বড় অংশের ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। কমিশনের এই তুঘলকি আচরণের ফলে এবার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারদের ভোটাধিকার নিয়েও টানাপোড়েন শুরু হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।