Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেলপথ তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ, সংসদে সরব মহুয়া মৈত্র

কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেলপথ তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিল রেলমন্ত্রক। সম্প্রতি কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে চিঠি লিখে এমনটাই জানানো হয়েছে। আর তা নিয়েই লোকসভায় সরব হলেন মহুয়া মৈত্র।

কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেলপথ তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ, সংসদে সরব মহুয়া মৈত্র
  • ৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেলপথ তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিল রেলমন্ত্রক। সম্প্রতি কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে চিঠি লিখে এমনটাই জানানো হয়েছে। আর তা নিয়েই লোকসভায় সরব হলেন মহুয়া মৈত্র। সম্প্রতি তিনি সাংসদে বলেন, রেলমন্ত্রকের তরফ থেকে একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল। যা ২০২৩ সালে শেষ হয়। তারপর থেকে এই সংক্রান্ত আর কিছুই জানা যায়নি। দু’মাস আগে রেলমন্ত্রকের তরফ থেকে আমাকে জানানো হয় যে, এই কাজ নাকি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। 

Advertisement

তিনি আরও বলেন, রেলের উদ্দেশ্য শুধু মাত্র লাভ করা নয়।‌ এর কাজ পুনরায় শুরু করা হোক। কিন্তু অনেকেই মনে করছেন প্রতিবছর নির্বাচন এলে, বিশেষ করে লোকসভা নির্বাচনের আগে, কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেলপথের কথা ওঠে। তখন ‘লোক দেখানো’ সমীক্ষার কাজও শুরু করা হয়। তৎপর হয় রেলমন্ত্রক। কিন্তু ভোট মিটলেই সেই কাজ আর এগয় না। কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেলপথ দীর্ঘদিন ধরেই নদীয়া জেলার মানুষের অন্যতম দাবি। কিন্তু বছরের পর বছর এই প্রকল্পের নামে শুধু সমীক্ষা হয়েছে, বাস্তবে রেলপথ তৈরির কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি। অতীতেও একাধিকবার এই রেলপথ নিয়ে সমীক্ষা হয়েছে, কিন্তু তাতে কোনও বাস্তব সুফল মেলেনি।
প্রায় ৮০ কিলোমিটার বিস্তৃত কৃষ্ণনগর, চাপড়া, তেহট্ট ও করিমপুর অঞ্চলজুড়ে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা সড়কপথ। প্রায় ১২ থেকে ১৪ লক্ষ মানুষ এই অঞ্চলে বসবাস করেন। নানান দরকারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কৃষ্ণনগরে যাতায়াত করেন। বাসে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লেগে যায়, যা রেলপথ থাকলে অনেকটাই সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হতো।
অথচ আশেপাশের নাকাশিপাড়া ও কালীগঞ্জ অঞ্চলের সঙ্গে মুর্শিদাবাদ ইতিমধ্যেই রেলপথের মাধ্যমে যুক্ত। অথচ কৃষ্ণনগর-করিমপুরের মতো জনবহুল অঞ্চলের জন্য এখনও রেলপথ বাস্তবায়িত হয়নি। স্থানীয়দের মতে, এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ঘন জনবসতি গড়ে উঠেছে এবং দিনে দিনে তা আরও বাড়ছে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রেলপথ নির্মাণের সম্ভাবনাও কমে যাচ্ছে।২০২৩ সালে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র রেলমন্ত্রককে চিঠি লিখে পুনরায় রেলপথের সমীক্ষার দাবি জানান। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রেলমন্ত্রক প্রাথমিকভাবে সাড়া দিয়ে সমীক্ষার জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। এরপর গত বছরের শুরুতে প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয় এবং সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় দফার ফাইনাল লোকেশান সার্ভেও শেষ হয়। ডিসেম্বরের মধ্যে ডিপিআর (ডিটেইল প্রজেক্ট রিপোর্ট) জমা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও এরপর আর কোনও অগ্রগতি হয়নি।
সম্প্রতি রেলমন্ত্রক সাংসদকে চিঠি লিখে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ফের একবার আশাহত নদীয়ার মানুষ, রেলপথের আশায় যারা প্রতিবারই ফিরে পেয়েছেন কেবল সমীক্ষার আশ্বাস। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। 
হোগলবেরিয়ার বাসিন্দা সুপ্রতিম দাস বলেন, করিমপুর থেকে কৃষ্ণনগরে সড়কপথে যেতে আমাদের অনেকটা সময় লেগে যায়। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এখান দিয়ে রেলপথ তৈরি করা হোক। কিন্তু আজ অব্দি তা বাস্তবায়ন হয়নি। শুধু সমীক্ষায় হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ