নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: পশ্চিম ভারতের মন্দিরের অপূর্ব নির্মাণশৈলী এবার দেখা যাবে নদীয়ার মাটিতে। এবছর গুজরাতের আহমেদাবাদের স্বামীনারায়ণ মন্দিরের আদলে জগদ্ধাত্রীপুজোর মণ্ডপ গড়ে তুলছে কৃষ্ণনগরের মল্লিকপাড়া জলকর বারোয়ারি। শহরের অন্যতম জনপ্রিয় এই বারোয়ারি পুজো ১৯৯৮সালে শুরু হয়েছিল। ২৮বছর ধরে জাঁকজমকের সঙ্গে পুজো আয়োজিত হচ্ছে। এবছর পুজোর বাজেট প্রায় ১৯লক্ষ টাকা।
এই পুজোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন রীতা দাস। তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য দর্শনার্থীদের কাছে ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা।
মল্লিকপাড়া এলাকায় মূলত শ্রমজীবী মানুষ বসবাস করেন। বছরের অন্যান্য সময় কঠোর পরিশ্রম করে তাঁরা রোজগার করেন। তবে জগদ্ধাত্রীপুজো এলেই তাঁদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ক্লাবের সভাপতি দেবজ্যোতি দাস(বাবন) বলেন, বিগত দু’দশকের বেশি সময় ধরে আমাদের পুজো ঘিরে এলাকার মানুষ আনন্দে মেতে ওঠেন। পুরো পাড়ার মানুষ এটাকে নিজেদের জগদ্ধাত্রীপুজো বলেই মনে করেন। তাঁরা পুজো আয়োজনে আমাদের নানাভাবে সাহায্য করেন। উদ্যোক্তারা জানান, এবছর মণ্ডপে এসে স্বামীনারায়ণ মন্দিরের অপূর্ব স্থাপত্য চাক্ষুষ দেখার অভিজ্ঞতা হবে দর্শনার্থীদের। খোদাই করা মার্বেল স্তম্ভ, নান্দনিক গম্বুজ, আলোকসজ্জা ও রংয়ের মেলবন্ধনে মণ্ডপের ভিতরে এক অনন্য পরিবেশের সৃষ্টি হবে। এই পুজো দর্শনার্থীদের মন জয় করে নেবে বলে মল্লিকপাড়া জলকর বারোয়ারির সদস্যরা আশাবাদী। পুজোর পরেও থেমে থাকে না উৎসব। ধুমধাম করে ঘট ভাসানের শোভাযাত্রা বের হয়। এখানে কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী সাঙে ভাসান হয় না। তবু দ্বিতীয় ভাসানের দিন পুরো মল্লিকপাড়া এলাকার মানুষ আনন্দে মেতে ওঠেন।