Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে পুষ্ট হবে আম, খুশি কৃষ্ণগঞ্জের চাষিরা

কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে পুষ্ট হবে আম, খুশি কৃষ্ণগঞ্জের চাষিরা
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে কৃষ্ণগঞ্জের আম চাষিদের মুখে হাসি ফুটল। কৃষ্ণগঞ্জে বরাবর ভালো আমের ফলন হয়। সেইমতো আমচাষিরা প্রস্তুতি নেন। তাই গরম পড়ার সঙ্গেই বিখ্যাত কৃষ্ণগঞ্জের আমবাগান ভরে ওঠে মুকুলে। জানা যায়, একটানা রেকর্ড তাপে জলের অভাবে আমের ফলনে ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে গত কয়েকদিন ধরে কৃষ্ণগঞ্জে বৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় গতবারের আম চাষের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে, আশায় রয়েছেন কৃষ্ণগঞ্জের আমচাষিরা। কৃষ্ণগঞ্জে ৩ হাজার আমচাষি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা ব্লকে বিভিন্ন রকমের আম চাষ করেন। 

Advertisement

কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণগঞ্জে প্রায় ১২০০ হেক্টর জমিতে আমচাষ হয়। হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, মল্লিকা, দোফলা, কাঁচামিঠা, কাতিমন, সহ আরও অনেক রকমের আমচাষ হয়। মালদহ, মুর্শিদাবাদের পর গোটা নদীয়ায় আমের ফলন সব থেকে ভালো হয়। তার মধ্যে শান্তিপুর, কৃষ্ণগঞ্জ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে, কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়ার বৃহৎ আমের বাজার আলাদা নজর কাড়ে। এখান থেকে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকার আমের ব্যবসা হয়। আমচাষি, বাগান ব্যবসায়ী, আড়তদার থেকে ছোট-বড় ব্যবসায়ী প্রত্যেকেই এই সময়ে বিভিন্নভাবে লক্ষ্মীলাভ করেন। গত বছর আড়তে সেভাবে আম ছিল না। তাই আমের ফলন নিয়ে সকলেই উদ্বেগে পড়ে যায়। আসলে গত বছর আমের ফলনের ‘অফ ইয়ার’ ছিল। তবে এ বছরের পরিস্থিতি একেবারে আলাদা। তাই আমচাষি থেকে আড়তদার, প্রত্যেকেই ফলন নিয়ে আশাবাদী। মাজদিয়ায় ৭০জনের বেশি আড়তদার রয়েছেন। জানুয়ারি মাস থেকে আম চাষিরা গাছের পরিচর্যা শুরু করে দেন। সার দেওয়া থেকে মুকুল আসার পর দু’বার ছত্রাক নাশক, অনুখাদ্য দেওয়া সমস্তই তাঁরা দেখভাল করেন।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় গড়ে বৃষ্টি হয়েছে ৬.৫ মিলিমিটার। কৃষ্ণগঞ্জে বৃষ্টি হয়েছে ৫.৩ মিলিমিটার। এই বৃষ্টিতে আমের শাঁস পুরু হয়। বোঁটাও শক্ত হয়। একইসঙ্গে আমের সাইজও ভালো হয়। কৃষ্ণগঞ্জের পাবাখালি, কেষ্টপুর, মাজদিয়া, গোপীপুর, আদিত্যপুর, ভাজনঘাট, তালদহ, মাজদিয়া, বানপুর, গেদে সহ একাধিক এলাকায় প্রচুর আমের ফলন হয়। এই আম কলকাতা, বারাসত, জয়নগর সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে যায়। আমচাষি অশোক বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টি হওয়ায় আমচাষের পক্ষে ভালো হয়েছে। বৃষ্টির জলে আম পুষ্ট হবে। ওজনেও ভালো হবে। আমরা তাই খুশি। মাজদিয়া আড়তদার কমিটির সদস্য মহাদেব দে বলেন, এই বৃষ্টিতে আমের ফলন ভালো হবে। তবে আমে একটা দাগ হয়। স্প্রে করলে ঠিক হয়ে যাবে। এবার আম ভালো হবে। তাই ব্যবসাও ভালো হবে। 
জেলার উপ-উদ্যানপালন অধিকর্তা(হর্টি কালচার) ঋষিকেশ খাঁড়া বলেন, মে মাসে গাছ থেকে আম পাড়া হবে। তার আগে এই বৃষ্টিতে গাছে আম আরও পুষ্ট হবে। তাই আমের ভালো ফলনের ক্ষেত্রে এই বৃষ্টি খুব কাজে লাগবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ