Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

কৃষ্ণ

বৈষ্ণবীয় তন্ত্রে শরীরের যেটা শেষ অস্থি তার নাম কুল। এইখানে শায়িত যে জীবভাব, তাকে শাক্ত তন্ত্র বলে কুলকুণ্ডলিনী, বৈষ্ণবীয় তন্ত্রে বলে রাধা আর সহস্রারস্হিত পরম শিবকে বলে কৃষ্ণ। সাধনায় দ্বারা সেই কুল-কুণ্ডলিনীকে ওপরে তুলতে হয়, সেটা হ’ল রাধা-কৃষ্ণের মিলন।

কৃষ্ণ
  • ৩০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বৈষ্ণবীয় তন্ত্রে শরীরের যেটা শেষ অস্থি তার নাম কুল। এইখানে শায়িত যে জীবভাব, তাকে শাক্ত তন্ত্র বলে কুলকুণ্ডলিনী, বৈষ্ণবীয় তন্ত্রে বলে রাধা আর সহস্রারস্হিত পরম শিবকে বলে কৃষ্ণ। সাধনায় দ্বারা সেই কুল-কুণ্ডলিনীকে ওপরে তুলতে হয়, সেটা হ’ল রাধা-কৃষ্ণের মিলন। এই যে ওপরে ওঠা, এর সঙ্গে সাধনার কতকগুলো গূঢ় তত্ত্ব রয়েছে। ইতোপূর্বে স্পষ্ট ভাষায় কখনো তা জানানো হয়নি। কারণ, কিছু লোক কোন অজ্ঞাত কারণে সাধনার অনেক জিনিসকে গোপনে রাখা উচিত মনে করত। যে জিনিসটাতে সবাইকার ক্ষতি হতে পারে সেটা জানাব না। কিন্তু যেটা জানালে কল্যাণ হতে পারে তা কেন জানাব না? নিশ্চয়ই জানাব। বরং তাতে সাধনার প্রতি লোকের অনুরক্তি বাড়বে। 

Advertisement

প্রথম কথা হ’ল এই যে আটটা স্টেপে আস্তে আস্তে কুলকুণ্ডলিনী মূলাধার চক্র থেকে সহস্রার চক্রে ওঠে আটটা চক্র অতিক্রম করে’। সহস্রার চক্র হ’ল নবম চক্র। সহস্রারের নীচের দিকটাকে বলা হয় গুরুচক্র। গুরুচক্রে ধ্যান করতে করতে মন এক ধাপ লাফিয়ে ওঠে। সেই জন্যে মনটা তখন উল্টো দিকে চলে আসে। সেই কারণে এই রকমের ওঠার বিধি রাখা হয়েছে সাধনার সুবিধার জন্যে। এ কথাটা প্রকাশ্যে জানানো হয় নি, বইয়েও নেই। এই আটটা স্টেপে, আটটা ফেজে লাফাতে লাফাতে যায় বলে সিদ্ধ মন্ত্রকে দু’টো সিলে-বলে রাখতেই হয় আর সে চার বার লাফায়, জাম্প করে। কিন্তু প্রকাশ্যে যেখানে সিদ্ধ মন্ত্র বলা হচ্ছে তাকে আট বার জাম্প করতে হয়, তাকে আটটা ফেজে রাখতে হয়। সেই জন্যে ইষ্টমন্ত্র মাত্রেই অষ্টাক্ষর। চিনেই নেবে, স্বীকৃত কীর্ত্তন অষ্টাক্ষর হবে - সাতও হবে না, নয়ও হবে না।
এই যে জীবভাব সাধনার দ্বারা ওপরে উঠে যাচ্ছে, কৃষ্ণের দিকে যাচ্ছে, পরম শিবের দিকে যাচ্ছে, সহস্রারে পিনিয়্যাল গ্ল্যান্ডের দিকে যাচ্ছে, এর ফলে মন ক্রমশঃ অন্তর্লোকের পানে, রমশঃ ভিতরের দিকে যেতে থাকে। এর মধ্যে বৈষ্ণবীয় তন্ত্রে যখন কুলকুণ্ডলিনী অর্থাৎ রাধাভাব নাভি অর্থাৎ মণিপুর চক্রের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে সেটাকে বলা হয় ব্রজভাব। আর যখন নাভি থেকে উঠে ত্রিকুটির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে সেটাকে বলা হয় গোপীভাব। আর ত্রিকুটির ঊর্ধ্বে উঠলে সেটাকে বলা হয় অদ্বয়ভাব বা রাধাভাব। এই তিন ভাগে বিভক্ত। মন যখন যে স্তরে উঠছে তদনুযায়ী সে এই যে মহাকাশের বিরাট প্রণবধ্বনি আদি কাল থেকে অনাদি কাল পর্যন্ত ধ্বনিত হয়ে এসেছে তাকেই বিভিন্ন ভাবে পেতে থাকে। কখনো প্রথমে শূণছে মেঘের গর্জন, কখনো শুণছে নূপুরের ধ্বনি, কখনো শূণছে সমুদ্রের গর্জন। এরকম ভাবে শুণতে শুণতে যখন মন ত্রিকুটির কাছে এসে যাচ্ছে তখন সে শোণে সুন্দর বাঁশীর শব্দ। মহাকাশের ওঙ্কারেরই বিভিন্ন অভিব্যক্তি। আর ত্রিকূটি অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে ওই রকমের ওঙ্কারধ্বনি শুণতে থাকে আর যখন পরম শিব বা কৃষ্ণের কাছে এসে পৌঁছে যায় তখন আর কোন ধ্বনি নেই। তখন নীরবতাই ধ্বনি, there is no expression। এই হ’ল সাধনার কতকগুলো গোপন দিক। 
শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তির ‘কৃষ্ণতত্ত্ব ও গীতাসার’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ