Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষক বন্ধু দুর্নীতি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শুরু তদন্ত

বেলডাঙায় কৃষকবন্ধু প্রকল্পে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে জেলাজুড়ে শোরগোল পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে জেলা কৃষিদপ্তর।

কৃষক বন্ধু দুর্নীতি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শুরু তদন্ত
  • ১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বেলডাঙায় কৃষকবন্ধু প্রকল্পে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে জেলাজুড়ে শোরগোল পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে জেলা কৃষিদপ্তর। ‘বর্তমান’ পত্রিকায় খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। জেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর, ডেপুটি ডিরেক্টর র‍্যাঙ্কের এক আধিকারিক, জেলা ও মহকুমাস্তরের দুই আধিকারিককে এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। সোমবারই জেলা থেকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বেলডাঙা-২ ব্লকের কৃষিদপ্তরে পৌঁছন। সেখানে গিয়ে তাঁরা চাষিদের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছেন। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের চাষিদের সুবিধার্থে কৃষকবন্ধু প্রকল্প চালু করেছিলেন। ২০১৯ সাল থেকে গত ছয় বছরে মুর্শিদাবাদ জেলার ১০ লক্ষের বেশি চাষি এই প্রকল্পে সুবিধা পেয়েছেন। আর এই প্রকল্পেই চাষিদের প্রাপ্য অর্থ ঘুরিয়ে আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় থাকা চাষিদের নিজস্ব এক একর বা তার বেশি চাষযোগ্য জমি থাকলে বার্ষিক ভাতা হিসেবে বছরে দু’দফায় ১০ হাজার টাকা, আর এক একরের কম চাষযোগ্য জমি থাকলে বার্ষিক ৫ হাজার টাকা ভাতা হিসেবে দু’দফায় দেওয়া হয় চাষিদের। সেই টাকা সরাসরি চাষিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। কিন্তু বেলডাঙা-২ ব্লকের বেশকিছু চাষির অভিযোগ, যাঁদের কম কৃষিজমি আছে তাঁদেরও ১০ হাজার টাকা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই কারচুপির জন্য চাষের জমির পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই ব্লকে কৃষকবন্ধু প্রকল্পে নাম তুলতে গেলেও টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ পেয়েই নড়েচড়ে বসে কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা। রাতারাতি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। 
বেলডাঙা-২ ব্লকের চাষিদের অভিযোগ, কৃষকবন্ধু প্রকল্পে নাম তুলতে গেলে ব্লকের কৃষিদপ্তরে দালাল মারফত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হাজার কিংবা দু’হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। কেউ যদি অফিসে সরাসরি ফর্ম জমা করেন, বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দু’-তিনবার তাঁর আবেদন খারিজ করা হচ্ছে। ব্লকের কৃষি আধিকারিককে(এডিএ) জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের যাবতীয় কাজ চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ব্লক অফিসে বসে এমনই এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীর মাধ্যমে লাগাতার টাকা লেনদেন হয়েছে বলেই অভিযোগ। বিভিন্ন চাষিরা ওই কর্মীকে লাগাতার অনলাইনে টাকা পাঠিয়েছেন বলেই দাবি করেছে। সেই লেনদেনের স্ক্রিনশটও প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছে চাষিরা।
কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, যে অভিযোগ জেলা কৃষিদপ্তরে জমা পড়েছে, তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিন সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে। ব্লকের কৃষি অধিকারিক ও ওই অস্থায়ী কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ