নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পাঁশকুড়ার তৃণমূল নেতা কুরবান শা খুনের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ দুই সাক্ষীর বিরুদ্ধে চার বছরে আটটি মামলা দায়ের হয়েছে। গণধর্ষণ, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ফৌজদারি মামলা ঝুলছে তাঁদের বিরুদ্ধে। সাক্ষীদের ভয় দেখাতে মিথ্যা মামলা বলে কুরবান শা-র পরিবারের দাবি। এই অবস্থায় আগামী সপ্তাহে মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সিবিআই তদন্তের দাবিতে আবেদন করতে চলেছেন আফজল শা। ওই খুনের মামলা প্রায় শেষ হওয়ার পথে। মামলায় তদন্তকারী টিমের দুই পুলিস অফিসার সহ কয়েকজন সাক্ষী বিরূপ ঘোষিত হয়েছেন। মামলার প্রধান দুই সাক্ষী আফজল শা এবং শেখ ইমরান আলির নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় থাকায় সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেইমতো তাঁদের দেহরক্ষী দেওয়া হয়েছে। তারপরও গত চার বছরে ওই দু’জনের বিরুদ্ধে আটটি মামলা দায়ের হয়েছে। তাতে গণধর্ষণ, চুরি, বধূ নির্যাতনের মতো মামলাও রয়েছে। নিহত ওই তৃণমূল নেতার পরিবারের দাবি, মিথ্যা মামলা দায়ের করে হেনস্তা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আফজল শাকে তিনজন দেহরক্ষী দেয় জেলা পুলিস। হাইকোর্টও ওই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। এরমধ্যেই আফজল সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হওয়ায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি আচমকা তাঁর তিন দেহরক্ষী তুলে নেওয়া হয়। ১৭ফেব্রুয়ারি তিনি জামিন পান। গত ২৪তারিখ নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহারের ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করে নগর দায়রা আদালতে মামলা করেন। যদিও ২৬তারিখ তাঁকে ফের দু’জন দেহরক্ষী দেয় পুলিস। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কেন ওই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করা হয়েছে এনিয়ে কলকাতা নগর দায়রা আদালত জেলার পুলিস সুপারের কাছ থেকে রিপোর্ট চায়। শনিবার পুলিস সুপার এসংক্রান্ত রিপোর্ট কোর্টে জমা করেছেন। সেইসঙ্গে গত ৯জানুয়ারি আরেক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী শেখ ইমরান আলি সাক্ষ্য দিয়ে ফেরার পথে তাঁর গাড়ি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। ওই ঘটনারও রিপোর্ট কোর্টে জমা পড়েছে।আফজল শা বলেন, আমার ভাইকে খুন করা হয়েছে। সেই খুনিদের শাস্তির দাবিতে আমরা আইনি লড়াই করছি। এজন্য প্রতি মুহূর্তে আমাকে খেসারত দিতে হচ্ছে। একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণ, চুরির মতো ঘটনাতে আমার নাম জড়ানো হয়েছে। আচমকা আমার নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করা হল। পাঁশকুড়া থানার পুলিস আদালতের নির্দেশ মানছে না। এই অবস্থায় পুলিসের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করব। সেইসঙ্গে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সিবিআই তদন্তের দাবিতে মামলা করব।পাঁশকুড়া থানার পুলিস জানিয়েছে, আফজল শা-র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ার পর নিম্ন আদালতে আগাম জামিন খারিজ হয়। এরপর তিনি বেপাত্তা হয়ে যান। তাঁর নিরাপত্তায় দায়িত্বে থাকা পুলিস কর্মীরা তাঁকে না পেয়ে থানায় ফিরে আসে। উচ্চ আদালতে জামিন পাওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে আসেন। তাঁকে ফের নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়।



