Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কুরবান হত্যা মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসির আয় বহির্ভূত টাকা ১৭ লক্ষ, চার্জশিট পেশ করল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা

কুরবান হত্যা মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসির আয় বহির্ভূত টাকা ১৭ লক্ষ, চার্জশিট পেশ করল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আয় বর্হিভূত সম্পত্তির অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রাক্তন এক ওসির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা করল রাজ্য দুর্নীতিদমন শাখা। অজয়কুমার মিশ্র নামে ওই অফিসার দীর্ঘদিন পূর্ব মেদিনীপুরে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ১০বছর ধরে নন্দকুমার, নন্দীগ্রাম এবং পাঁশকুড়া থানার ওসি হিসেবে ডিউটি করেছেন। ২০২১ সালে জেলা পুলিস হেড কোয়ার্টারে ডিআইবি শাখায় অফিসার ইনচার্জ ওয়াচ থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতিদমন শাখা। ওই শাখার ইন্সপেক্টর শুভ্রেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অফিসারের বাড়িতে হানা দিয়েছিল এসিবি। আয় বর্হিভূত ১৭লক্ষ ৫২হাজার ৫৮৩টাকার হদিশ মেলে। এরপরই তদন্ত আরও গতি পায়। সম্প্রতি কলকাতা নগর দায়রা আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ১৪পাতার চার্জশিট জমা করেছে এসিবি। ওই ঘটনায় তোলপাড় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিস মহল। বর্তমানে অজয়বাবু প্রমোশন পেয়ে বারাকপুর পুলিস কমিশনারেটে কর্মরত।
Advertisement
২০১৯ সালে ৭অক্টোবর পাঁশকুড়ার মা‌ইসোরায় খুন হন তৃণমূল নেতা কুরবান শা। সেই সময় পাঁশকুড়ার ওসি ছিলেন অজয়কুমার মিশ্র। ওই খুনের ঘটনায়ও তদন্তকারী অফিসার হন অজয়বাবু। ওই মামলার তিনি চার্জশিটও জমা দেন। এরপর তিনি পাঁশকুড়া থানা থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ ওসি ওয়াচ হিসেবে বদলি হন। তারপর একেবারে কালিম্পং জেলায় পোস্টিং। ইন্সপেক্টর পদে প্রমোশন পাওয়ার পর তিনি এখন বারাকপুর পুলিস কমিশনারেটে কর্মরত। তবে, এসিবি চার্জশিট জমা করার পর ওই অফিসার এখন বেশ চাপে রয়েছেন। 
এসিবির তদন্তকারী টিমের পক্ষ থেকে অজয়বাবুর বিরুদ্ধে ওই শাখার সুপারকেও রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে তিনি এসআই হিসেবে পুলিসের চাকরি পান। তাঁর নামে তিনটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এছাড়া, তাঁর স্ত্রীর নামে দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০১৮সালের ১জানুয়ারি থেকে ২০২১সালে ১৫জুন পর্যন্ত ওই পুলিস অফিসার ও তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের টাকা জমা পড়েছে। আয় বর্হিভূত ১৭লক্ষ ৫২হাজার ৫৮৩টাকার সন্ধান মিলেছে। তাঁর আয়ের তুলনায় ওই অর্থ ১১৯শতাংশ বেশি।
পুলিস মহলের একাংশের বক্তব্য, কুরবান শা খুনের মামলায় অতি সক্রিয়তা দেখিয়েছিলেন অজয়বাবু। সম্ভবত সেটাই তাঁর জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ওই মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে পরপর বিরূপ সাক্ষী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন জেলা পুলিসের এসআই দিলীপ চক্রবর্তী ও আমিনুল ইসলাম। ঘটনার সময় তাঁরা দু’জনেই পাঁশকুড়া থানার এএসআই ছিলেন। কুরবান শা খুনের মামলায় তদন্তকারী অফিসার হিসেবে অজয় মিশ্র অনেকবার সাদা কাগজে সই করিয়ে নিয়েছেন বলে আমিনুল সাহেব নগর দায়রা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাদা কাগজে সই নিয়ে ওই পুলিস অফিসারের বয়ান ঘিরে হইচই শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে কলকাতা নগর দায়রা আদালতে কুরবান শা খুনের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষের পথে। আদালতে প্রতিদিনই হাজির হচ্ছেন মামলার তদন্তকারী অফিসার অজয়বাবু। সেই আদালতে দুর্নীতি দমন শাখা তাঁর বিরুদ্ধে হিসেব বর্হিভূত সম্পত্তির ঘটনায় চার্জশিট জমা করেছে। এপ্রসঙ্গে ওই পুলিস অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসিবি এনকোয়ারি নিয়ে কিছু বলতে পারব না। আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তের একাধিক কারণ থাকতে পারে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ