নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বড়দিন চলে গেলেও সারাই হল না কুপার্স রোড। কিছু প্যাচ ওয়ার্ক হলেও পড়েনি পিচের প্রলেপ। এই রাস্তার দু’ পাশে বসবাসকারী সকলেই খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁদের মূল উৎসবের আগে রাস্তা সারাই না হওয়ায় মুখভার তাঁদের। ক্ষিপ্ত অন্য জায়গা থেকে বড়দিন পালনে আসা মানুষও। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে বেরিয়ে রাস্তাটি বেগোপাড়া হয়ে পৌঁছচ্ছে কুপার্স ক্যাম্পে। এদিকে জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত বেগোপাড়া চার্চ। ফলে এই রাস্তা দিয়েই হয় ‘ক্রিসমাস ওয়াক’। বড়দিন উপলক্ষ্যে আলোয় সেজে উঠেছে রাস্তাটি। দু’ ধারে রকমারি স্টল মেলার চেহারা নিয়েছে। সবমিলিয়ে কুপার্স রোড যেন মিনি পার্ক স্ট্রিট। বড়দিনের আগের সন্ধ্যা থেকেই সেখানে মানুষের ঢল নেমেছে। কেউ এসেছেন ধানতলা থেকে, তো কেউ রানাঘাট শহর থেকে। এদিকে বছরখানেক ধরেই জরাজীর্ণ কুপার্স রোড। উৎসবের মেজাজে ছেদ ফেলছে সেই জীর্ণ রাস্তার উপরে স্রেফ প্যাচওয়ার্ক করে রাখার দরুন মাথা উঁচিয়ে থাকা ইট, পাথর আর খোয়া। হালকা শীত গায়ে মেখে দূরদূরান্ত থেকে সেই রাস্তায় হাঁটবেন বলে যারা এসেছিলেন, তাঁরা হোঁচট খেতে খেতেই অস্থির। কেন রাস্তার এই অবস্থা? বেড়াতে এসে চোখ কপালে তুলে এমনই বিস্ময় ব্যক্ত করেছেন বেগোপাড়ার অতিথিরা। দত্তপুলিয়া থেকে আসা সুলগ্না, বিশ্বাসের কথায়, সাত-আট মাস আগে একবার এখানে এসেছিলাম। তখন রাস্তা অত্যন্ত খারাপ ছিল। এখন এসে দেখলাম কিছু ইট-পাথর ঠুকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পিচ হয়নি। এত ভিড় আর মেলার মাঝে এরকম জীর্ণ রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে পড়ে মুখ ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আবার পুরাতন চাপড়ার বাসিন্দা তনুশ্রী রায় বলেন, এত বড় একটা উৎসব এই এলাকার। সেখানকার রাস্তাটা তো ভালোভাবে তৈরি করা প্রশাসনের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এমন রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে তো প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার জোগাড়। রানাঘাট ২ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক শুভজিৎ জানা বলেন, ওই রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আগে বড় বড় খানাখন্দ ছিল। আমরা প্যাচওয়ার্ক করেছি। শীঘ্রই বাকি কাজে হাত দেওয়া হবে। আশা করছি দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে।



