সংবাদদাতা, কাঁথি: আরও একটা কালীপুজো চলে গেল। এখনও মূর্তিহীন কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের দারিয়াপুরের কপালকুণ্ডলা মন্দিরের। বৃহস্পতিবার সর্বত্র যখন শক্তির আরাধনা চলছিল, তখন অন্ধকারাচ্ছন্ন, মূর্তিহীন হয়ে ছিল ঐতিহ্যবাহী কপালকুণ্ডলা মন্দির। এবছরও মন্দিরে মা কালীর মূর্তি না বসায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর কেটে গিয়েছে বারোটা বছর। সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে মন্দিরটি। সর্বত্র ফাটল ধরেছে। প্লাস্টার খসে পড়ছে। মন্দিরের ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে। এলাকার বাসিন্দারা অবিলম্বে মন্দিরের সংস্কার এবং কালীমূর্তি বসানোর দাবি জানিয়েছেন।
Advertisement
উল্লেখ্য, বহুকাল ধরে পুরনো মন্দিরটি ঘন জঙ্গলের মধ্যে ভাঙা অবস্থায় পড়েছিল। এলাকাবাসীর দাবি মেনে ২০১১ সালে হেরিটেজ কমিশন মন্দিরের সংরক্ষণে এগিয়ে আসে। কমিশনের আর্থিক সহযোগিতায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মন্দিরটিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, নতুন করে মন্দিরে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে। কিন্তু দেখতে দেখতে ১২টা বছর কেটে গেলেও আজও তা হয়নি। শুধুমাত্র কালীপুজোর দিন স্থানীয় মানুষ মন্দিরে প্রদীপ জ্বালান। ব্যস, এই পর্যন্ত। বরং পুরনো মন্দির থেকে কিছুটা দূরে একটি কালীমন্দির বেশ কয়েক বছর আগে গড়ে তোলা হয়েছে, তারও নামকরণ করা হয়েছে কপালকুণ্ডলা মন্দির। গ্রামবাসীদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা সেই মন্দিরেই পুজো ঘিরে মেতে ওঠেন এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা প্রদ্যোৎ পড়িয়ারি বলেন, সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস কপালকুণ্ডলার পটভূমি এই দারিয়াপুরেই রচিত হয়েছিল। বর্তমানে মন্দিরটির ভগ্নদশা। নানা প্রান্ত থেকে ইতিহাসপ্রেমী মানুষ এবং পর্যটকরা মন্দির দর্শনে আসেন। তবে মন্দির মূর্তিহীন দেখে তাঁরা হতাশ হয়ে ফিরে যান। তাঁরাও আমাদের বলে যান, মন্দিরে কালীমূর্তি থাকলে খুব ভালো হতো। মন্দিরটি পূর্ণতা লাভ করত। এবিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তবে এপর্যন্ত সদর্থক কিছু সাড়া মেলেনি। বিডিও শুভাশিস মজুমদার বলেন, এটা একেবারেই কাঙ্খিত নয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পর্যটন দপ্তরের নজরে আনা হবে। দ্রুত যাতে কপালকুণ্ডলা মন্দিরের সংস্কার এবং কালীমূর্তি স্থাপন করা হয়, সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট হব।



