সংবাদদাতা, করিমপুর: ফুলকপি সহ বাধাকপি, শিম বেগুন কিংবা লঙ্কার দাম কমে যাওয়ায় চরম সমস্যায় চাষিরা। সামান্য দামে আনাজ বিক্রি করে চাষের খরচ উঠছে না বলে হা হুতাশ করছেন তাঁরা। করিমপুর এবং লাগোয়া মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকলের বহু চাষি ফুলকপি, বাধাকপি, বেগুন, টমেটো, পেয়াজ, লঙ্কা চাষ করেন। তাঁদেরই একজন সফিকুল আলম বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারেও প্রায় তিন বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছি। মাস দুয়েক আগে ফুলকপির দাম চড়া থাকলেও গত দু’ সপ্তাহ আগে থেকে তলানিতে ঠেকেছে ফুলকপির দাম। পুজোর মরশুমে একটি কপি ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাস খানেক আগেও ১৫-২০ টাকা দাম পেয়েছি। গত কয়েক দিনে করিমপুর, নাজিরপুর সহ বিভিন্ন হাটে বাজারে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে টাকায় তিনটি। চাষিদের দাবি, বাজারে তিন-সাড়ে তিন টাকা দরে ফুলকপি বিক্রি হলেও চাষিরা পাচ্ছেন দেড় থেকে দুই টাকা। চাষি বাক্কার মণ্ডল বলেন, এখন ফুলকপির যা দাম, তাতে লাভ তো দূরের কথা, চাষের খরচটুকুও ঘরে ফিরছে না। একটা বাধাকপি তিন টাকা, শিম পাঁচ টাকা কেজি, টমেটো দশ টাকা কেজি, বেগুন ৮-১০ টাকা কেজি, লঙ্কা ত্রিশ টাকা কেজি। অথচ এক মাস আগে লঙ্কা, ৫০-৬০ টাকা কেজি, শিম ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ওই দাম পেলেও হতো। কিন্তু বর্তমান হু হু করে দাম কমায় চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বক্সীপুরের একরাম মণ্ডল বলেন, প্রায় চার বিঘা জমিতে ফুলকপি রয়েছে। জমির সমস্ত কপি কাটার মতো হয়ে গিয়েছে। এই দামে কপি হাটে বা বাজারে নিয়ে যাওয়ার খরচটুকুই ঊঠবে না। মুদা শেখ নামে আরেক চাষি বলেন, সার, কীটনাশক এবং সেচের যা খরচ, তাতে ফসল বিক্রি করে লাভের বদলে ক্ষতি হচ্ছে। আনাজের দাম বাড়লে সকলে জানতে পারে এবং হইচই করে। কিন্তু চাষিরা দাম না পেলে তা নিয়ে কারও কোনও মাথাব্যথা নেই। উদ্যান পালন দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, ফুলকপি এখন সারাবছর চাষ হলেও এটি মুলত শীতকালীন আনাজ। ফলে লাভের আশায় শীতকালে বেশি পরিমাণে ফুলকপির চাষ করছেন চাষিরা। শুধু ফুলকপি নয়, পাশাপাশি বেগুন, টমেটো, শিম চাষও খুব বেশি হওয়ায় দাম কমছে।



