Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কোনা এক্সপ্রেসওয়ের বেতড় মোড় যেন মরণফাঁদ, রাত হলে বাড়ে দুর্ঘটনার শঙ্কা

কোনা এক্সপ্রেসওয়ের বেতড় মোড় ক্রসিং ক্রমেই মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্য যাত্রীদের। রাত গভীর হলেই এই গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে দেখা মেলে না ট্রাফিক পুলিশের।

কোনা এক্সপ্রেসওয়ের বেতড় মোড় যেন  মরণফাঁদ, রাত হলে বাড়ে দুর্ঘটনার শঙ্কা
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোনা এক্সপ্রেসওয়ের বেতড় মোড় ক্রসিং ক্রমেই মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্য যাত্রীদের। রাত গভীর হলেই এই গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে দেখা মেলে না ট্রাফিক পুলিশের। ফলে দুই লেনের মাঝের সংকীর্ণ কাট আউটে দাঁড়িয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হন বাইক ও সাইকেল আরোহী থেকে শুরু করে পথচারীরা। রাস্তা পারাপারের সময় হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়, যে কোনওদিন বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকার মানুষ।

Advertisement

দ্বিতীয় বিদ্যাসাগর সেতু পেরিয়ে নবান্ন সংলগ্ন র‍্যাম্প লেন অতিক্রম করলেই শুরু হয় কোনা এক্সপ্রেসওয়ে। বর্তমানে এই রাস্তায় এলিভেটেড করিডর নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি রাস্তার দু’পাশ সম্প্রসারিত করার কাজও জোরকদমে এগোচ্ছে। এর জেরে দিনে সাঁতরাগাছি স্টেশনের সামনের অংশ পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকে। ক্যারি রোড ক্রসিং, বেলেপোল মোড় সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে দিনের বেলায় ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও রাত বাড়লেই বদলে যায় পরিস্থিতি। অভিযোগ, রাত গভীর হলে অধিকাংশ ক্রসিংয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল শুধু হলুদ অবস্থায় থাকে। রাত ১১টার পর দু’-একজন সিভিক ভলান্টিয়ার ছাড়া কার্যত কোনও ট্রাফিক কর্মীর দেখা মেলে না। সিগন্যাল কার্যত খোলা থাকায় কোনা এক্সপ্রেসওয়ের দু’টি লেনেই ভারী পণ্যবাহী লরি ও দ্রুতগতির গাড়ির দাপট বেড়ে যায়। এর ফলে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বেতড় মোড় ক্রসিং। ক্যারি রোড ক্রসিং ও বেলেপোল মোড়ে দুই লেনের মাঝের কাট আউটে কিছুটা জায়গা থাকলেও বেলেপোলের ঠিক পরেই বেতড় মোড়ে সেই কাট আউট অত্যন্ত সংকীর্ণ। সেখানে দাঁড়িয়ে রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা কার্যত প্রাণ হাতে নিয়ে দাঁড়ানোর সমান। দু’দিক দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা বড় গাড়ির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আতঙ্কে থাকেন দু’চাকার আরোহী ও পথচারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে বেতড় মোড় পার হওয়ার সময় আচমকা দ্রুতগতির এক বাইকের ধাক্কায় আহত হন এক পথচারী। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন তিনি। অভিযোগ, ঘটনার সময় সেখানে কোনও ট্রাফিক পুলিশকর্মী ছিলেন না। দিনভর বাকসাড়া থেকে রামরাজাতলার দিকে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত হয় এই বেতড় মোড় ক্রসিং দিয়েই। স্কুল পড়ুয়াদের চলাচলও উল্লেখযোগ্য। তাই রাতের দিকে অন্তত পুলিশকর্মী মোতায়েন রাখা এবং সিগন্যালে রাস্তা পারাপারের সময় বাড়ানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদিও পুলিশের দাবি, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টেই পর্যাপ্ত কর্মী মোতায়েন থাকে। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ