নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেউ রাজ্যের রাজধানী শহরে ফ্ল্যাট কিনে রেখেছেন, কিন্তু এখানে থাকেন না। পরিবারের সদস্যরা কোনো প্রয়োজনে কলকাতায় এলে সেই ফ্ল্যাটে থাকেন। বেশিরভাগ সময় ফাঁকাই পড়ে থাকে ফ্ল্যাট। কেউ আবার হাতিবাগান বা ভবানীপুরের ছোটো একতলা বাড়ি ছেড়ে উঠে গিয়েছেন দমদম, সোদপুরের মতো শহরতলি এলাকায়। কলকাতায় বাড়িঘর পড়ে রয়েছে, কিন্তু কেউ থাকেন না। এরকম বেশ কিছু কারণে কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা তেমন বৃদ্ধি পায়নি। ইতিমধ্যে কলকাতার পাশাপাশি গোটা রাজ্যেই জনগণনার প্রথম ধাপ অর্থাৎ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইনিউমারেশন সম্পূর্ণ হয়েছে। আর তাতেই আভাস মিলেছে, গত ১৫-১৬ বছরে কলকাতার জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে সামান্যই। যদিও এর স্পষ্ট চিত্র পেতে গেলে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ সালে সেন্সাস প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত।
এই ইনিউমারেশন পর্বে কলকাতায় ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৪২টি ‘সেন্সাস হাউস’ নথিভুক্ত হয়েছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, ইনিউমারেশনের পর দেখা যাচ্ছে, শহরের স্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা ৪৫ লক্ষ ২০ হাজারের আশেপাশে। সেই জায়গায় ২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারিতে কলকাতার জনসংখ্যা ছিল ৪৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৯৪। অর্থাৎ, বেড়েছে মাত্র ২৫ হাজার। এই পরিসংখ্যান থেকেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি অত্যন্ত স্বল্প। একটি মেট্রোপলিটন সিটির জনসংখ্যা বৃদ্ধি এতটা কম হওয়া কিছুটা অস্বাভাবিক!
কেন এমন পরিস্থিতি? আধিকারিকদের মতে, বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা আছে, কিন্তু সেখানে কেউ থাকে না। কোথাও আবার বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের সন্তান কর্মসূত্রে বাইরে। এক্ষেত্রে অবশ্য সন্তানকেও গণনায় ধরতে হচ্ছে। কিংবা সন্তান যদি পাকাপাকিভাবে বাইরে থাকেন, সেই তথ্য জেনে নিয়ে গণনায় তাঁকে বাদ দিতে হচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, ‘এমন ছবি শহরের বহু অঞ্চলে। বহু পরিবার আগে হয়তো কলকাতা পুরসভা এলাকায় থাকতেন। বর্তমানে জমি-বাড়ি বেচে পার্শ্ববর্তী কোনো জেলায় চলে গিয়েছেন।’ ফলে শহরের স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ২০১১ সালের তুলনায় কতটা বাড়বে বা আদৌ বৃদ্ধির ছবি গণনায় ধরা পড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান কর্তারা।
আধিকারিকদের একাংশ অবশ্য হিসাব কষে জানাচ্ছে, কলকাতায় প্রায় ১০ শতাংশ স্থায়ী জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটেছে। তাঁদের ব্যাখ্যা, ‘২০১১ সালের গণনায় বেশ কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। অন্তত তিন লক্ষ নাগরিকের হিসাব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে প্রশাসনের অন্দরেই। তাছাড়া, সাম্প্রতিক এসআইআরে কলকাতায় প্রায় পাঁচ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে। তাঁদের অনেকে পাকাপাকি অন্যত্র চলে গিয়েছেন বা যেখানে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন, সেখানে সেন্সাসে অংশ নিয়েছেন। এসব যোগ-বিয়োগ করলে প্রায় ১০ শতাংশ জনসংখ্যা বৃদ্ধির আভাস মিলতে পারে।’
জনগণনার কাজে যুক্ত অফিসাররা জানাচ্ছেন, আপাতত প্রতিটি বাড়ি নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের ঠিকুজি নেওয়া হয়েছে। এরপর এক-একজন নাগরিক ধরে গণনা হবে। তখনই শহরের প্রকৃত জনসংখ্যার ছবিটা স্পষ্ট হবে। এর পাশাপাশি, শহরে কত সংখ্যক গৃহহীন মানুষ রয়েছেন, ফুটপাতবাসী ও ভবঘুরের সংখ্যা কত, তাও আলাদাভাবে গণনা করা হচ্ছে।