Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘গায়েব’ শীত, গরম-পোশাক কোমরে বাঁধল শহর

ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল বেশ চলছিল। আচমকা সব উধাও। রবিবার দুপুরবেলা চড়চড়ে রোদ কলকাতায়। কয়েকজন সকালে বেরিয়েছিলেন বলে সঙ্গে নিয়েছিলেন গরম জামা।

‘গায়েব’ শীত, গরম-পোশাক কোমরে বাঁধল শহর
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল বেশ চলছিল। আচমকা সব উধাও। রবিবার দুপুরবেলা চড়চড়ে রোদ কলকাতায়। কয়েকজন সকালে বেরিয়েছিলেন বলে সঙ্গে নিয়েছিলেন গরম জামা। দুপুরে সে জামা হয়ে উঠল যন্ত্রণার কারণ। তার ঠাঁই হল কোমরে। ঠান্ডা হাওয়া প্রায় নেই। রোদের তাপ যথেষ্ট। তবে তীব্র গরম নয়। কিন্তু কয়েকদিনের নিরবচ্ছিন্ন ঠান্ডার পর এ রোদও অসহ্য। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ‘এদিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’

Advertisement

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তর ভারতের ঠান্ডা হাওয়ার প্রভাব কমেছে। কলকাতার বাতাসে ঢুকেছে জলীয় বাস্প। ফলে বেড়েছে গরম। সে কারণে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সামান্য হলেও বেড়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস আগেই জানিয়েছিলেন, ‘এরকম হয়েই থাকে। কখনও ঠান্ডার আমেজ। আবার হয়তো আগামী দিনে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ল।’ আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ‘আগামী কয়েকদিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা উর্ধ্বমুখী থাকবে শহরে। মোটামুটিভাবে ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রির মধ্যে থাকারই সম্ভাবনা।’
রবিবার দমদম ও সল্টলেকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১৮ ও ১৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে কলকাতার বুকে। রবিবারের সকালে কেউ বেরিয়েছিলেন খেলা দেখতে। কেউ ছুটির দিন ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। রাস্তায় দুপুরের দিকে দেখা গিয়েছে, গরমের হাত থেকে বাঁচতে গরম জামা কোমরে বাঁধছেন সবাই। ব্যাগে ভরছেন বাচ্চাদের গরম পোশাক। অনেককে গরম জামা মাথায় দিয়ে রোদের হাত থেকে বাঁচতেও দেখা গিয়েছে। বাসে উঠে জানলার পাশে বসে এক ব্যক্তির বক্তব্য, ‘অনেকদিন বাদে আবার রুমাল দিয়ে ঘাম মুছতে হচ্ছে।’ হাওড়ার এক বাসিন্দার কথায়, ‘বিকেলে হাওড়া থেকে বাইক চালিয়ে কলকাতায় এলাম। বাইকে বসে বেশ ঠান্ডা লাগছিল। আর দুপুরে দেখুন, অসহ্য গরম!’ 
সকালে ইডেনে খেলা দেখতে এসে দুপুরে বাড়ি ফেরার সময় লোকজনের বক্তব্য, ‘যখন সকালে বেরিয়েছিলাম সেই সময় গায়ে গরম জামা দিতে হয়েছে। কিন্তু দুপুরে এত তেজ রোদের! গায়ে জ্যাকেট রাখা যাচ্ছে না।’ যদিও শহরের পাশে থাকা উলুবেড়িয়া, ক্যানিং, ডায়মন্ডহারবারের তাপমাত্রা ছিল অপেক্ষাকৃত কম। উলুবেড়িয়াতে ১৩.৬, ক্যানিংয়ে ১৬ ও ডায়মন্ডহারবারে ১৭.৬ ডিগ্রি ছিল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
কিছুদিন আগেই দুপুরে শরীরে রোদ পড়লে অস্বস্তি হচ্ছিল না। কিন্তু রবিবারের রোদের তেজ বেশ অনেকদিন বাদে একটু হলেও ঘায়েল করল মানুষকে। শীত শুরুর মরশুম হলেও হেঁটে এসে অনেকে ঠান্ডা পানীয়তে গলা ভেজালেন। অনেকেই কটাক্ষের সুরে বললেন, ‘শুরুতেই এত শীত শীত করতে থাকলে এমনটাই হয়।’ আর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ‘এমন গরমের হাত থেকে এখনই স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও বাড়বে।’ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ