Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কলকাতা-বারাণসী রাস্তা, জমি অধিগ্রহণে তোড়জোড়

কলকাতা-বারাণসী রাস্তা, জমি অধিগ্রহণে তোড়জোড়
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: কিছুটা দেরি হলেও অবশেষে কলকাতা-বারাণসী গ্রিনফিল্ড করিডরের (এক্সপ্রেসওয়ে) জন্য জমি অধিগ্রহণের তোড়জোড় শুরু করল রাজ্য। কেন্দ্রের ভারতমালা প্রকল্পের অধীনে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে কলকাতা পর্যন্ত ছয় লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হওয়ার কথা। উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে বিহার, ঝাড়খণ্ড হয়ে পথটি প্রবেশ করার কথা পশ্চিমবঙ্গে। ২০২১ সালের শেষের দিকেই প্রকল্পতি গৃহীত হয়েছিল। অন্যান্য রাজ্যে জমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, এরাজ্যে প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে ছিল এতদিন। অবশেষে সেই তোড়জোড় শুরু হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের আদেশনামাও প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করে ফেলতে চাইছে রাজ্য। তাহলে ২০২৬ সাল থেকেই সড়ক নির্মাণ শুরু করা যাবে। 

Advertisement

ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এনএইচএআই) সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মোট পাঁচটি জেলার উপর দিয়ে এই সড়ক তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় ৬৪২ কিলোমিটার প্রস্তাবিত এই সড়কের প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার থাকার কথা বাংলায়। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মধ্যে দিয়ে তা যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, বারাণসী থেকে ঝাড়খণ্ড পর্যন্ত এই সড়কের প্রস্তাবিত রুটম্যাপ অনেক আগেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে অনেক জায়গায়। কিন্তু, বাংলায় এই সড়কের নির্দিষ্ট রুটম্যাপ নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। বারংবার রুটম্যাপ বদল হচ্ছিল। অবশেষে তা চূড়ান্ত হতেই জমি অধিগ্রহণের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের বোকারো থেকে পুরুলিয়ার ঝালদা-২ ব্লকের গুড়িডি দিয়ে জেলায় প্রবেশ করবে এই সড়ক। তারপর জয়পুর, পুরুলিয়া-১, পুরুলিয়া-২, হুড়া ও পুঞ্চা ব্লকের উপর দিয়ে সড়কটি প্রবেশ করবে বাঁকুড়ার ইঁদপুরে। সেখান থেকে তালডাঙরা, সিমলাপাল হয়ে সড়কটি প্রবেশ করবে পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায়। গড়বেতা-১, চন্দ্রকোণা, ঘাটাল হয়ে হুগলির খানাকুল-১, খানাকুল-২ ব্লকের উপর দিয়ে সড়কটি প্রবেশ করবে হাওড়ার আমতায়। আমতা সাঁকরাইল ব্লক হয়ে সড়কটি জোকা-নামখানা ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে মেশার কথা রয়েছে। হুগলি নদীর উপর নতুন সেতুও তৈরি  হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, পুরুলিয়া জেলায় থাকবে সড়কটির প্রায় ৮১ কিলোমিটার। বাঁকুড়া জেলায় থাকছে ৬০ কিলোমিটার, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৫৯ কিলোমিটার, হুগলিতে ১৭ কিলোমিটার, হাওড়ায় প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ৩৩ কিলোমিটার থাকছে। এটি গ্রিনফিল্ড করিডর হওয়ায় অন্যান্য জাতীয় সড়কের মতো যেখান সেখান থেকে এই সড়কে ওঠা যাবে না। রাস্তার দু’দিকেই ব্যারিকেড থাকবে। মোট ২৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ১১-১২টি পয়েন্ট থাকবে। শুধুমাত্র সেখান থেকেই এই সড়কে ওঠা যাবে। 
কেন্দ্রের নয়া জমি অধিগ্রহণ আইন মেনে রাস্তার দু’ধারের জমি অধিগ্রহণ করা হবে। তবে, এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান শর্ত, নির্বিঘ্নে জমি জোগাড় করে দিতে হবে রাজ্যকে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, রাজ্য সরকারের অন্যতম নীতিই হচ্ছে জোর করে জমি অধিগ্রহণ করা হবে না। মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পূর্ণ সম্মতির ভিত্তিতেই জমি অধিগ্রহণ করা হবে। জমিদাতাদের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের ফলে কলকাতা থেকে যেমন কম সময়ে বারাণসী পৌঁছনো যাবে, তেমনই কলকাতার সঙ্গে বাকি জেলাগুলির যাতায়াত আরও উন্নততর হবে। কমবে পণ্য পরিবহণের খরচও। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ