সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: সচেতনতা বাড়াতে লাগাতার প্রচার, কর্মশালা, গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন, রিজার্ভ ব্যাংকের সতর্কবার্তা, মুঠো ফোনে অ্যালার্ট— বিরাম নেই কিছুতে! তবুও মহানগরী কলকাতার বাসিন্দারা নিজেদের পকেট থেকে ২০২৪’এর তুলনায় চলতি বছরের (২০২৫) নভেম্বর মাস পর্যন্ত ১২ গুণ অর্থ তুলে দিয়েছেন সাইবার প্রতারকদের হাতে।
২০২৪’এর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত হিসেবে, সে বছর সাইবার প্রতারকরা কলকাতা থেকে হাতিয়েছিল ১০০ কোটি টাকা। আর ২০২৫’এ? ‘সচেতন’ মহানগরীর বাসিন্দাদের কাছ থেকে চলতি নভেম্বর মাস পর্যন্ত ১২০০ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছে সাইবার প্রতারকরা। গতবারের চেয়ে ১২ গুণ বেশি অর্থ। চমকে দেওয়ার পরিসংখ্যান মিলেছে চলতি নভেম্বর মাসে। কলকাতা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনে কলকাতাবাসী সাইবার প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে খুইয়েছে ১০ কোটিরও বেশি টাকা। সবচেয়ে বেশি টাকা গচ্চা গিয়েছে সাউথ সাবার্বান ডিভিশনের (এসএসডি) বাসিন্দাদের। কলকাতা পুলিশের এই ডিভিশনটি যাদবপুরকে ঘিরেই আবর্তিত। সেই যাদবপুর যেখানে সমাজ আর রাজনৈতিক সচেতন মানুষের সংখ্যা শহরের অন্য প্রান্তের তুলনায় অনেকটাই বেশি বলে সুপ্রতিষ্ঠিত। এহেন ডিভিশনে প্রতারণার খপ্পরে কে পড়েননি? শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত চাকুরে মায় রাজনীতিবিদ সবাই রয়েছেন এই তালিকায়। কী কী ভাবে প্রতারিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ? পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হোটেল-রিসর্টের রুম বুকিং, ট্রেন-প্লেনের টিকিট বুকিং, কেওয়াইসি আপডেট, শেয়ার বিনিয়োগের টোপ, গোল্ড বন্ড কেনা, ওটিপি শেয়ার করার মতো টোপ গিলে টাকা খুইয়েছেন শহরবাসী। তবে কাস্টমস, সিবিআই সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সির কর্তা সেজে ডিজিটাল অ্যারেস্টের মাধ্যমে সবেচেয়ে বেশি অর্থ খুইয়েছেন সচেতন কলকাতাবাসী।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে মেলা তথ্য থ্য অনুযায়ী, অর্থ গচ্চা দেওয়ার ক্ষেত্রে এসএসডি’র পরেই রয়েছে সাউথ ওয়েস্ট ডিভিশন অর্থাৎ বেহালা। চলতি মাসের ১ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত মেলা তথ্য অনুযায়ী এখানকার লোকজন খুইয়েছেন ২ কোটি ২ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা। এরপরেই রয়েছে সেন্ট্রাল ডিভিশন অর্থাৎ শহরের বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট বলে পরিচিত বড়বাজার, পোস্তা, বউবাজার, নিউমার্কেট, শিয়ালদহের মতো বাণিজ্যিক এলাকা। এখানকার বাসিন্দারা এই সময়ে গুণাগার দিয়েছেন ১ কোটি ৯২ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা। টাকা গচ্চা দেওয়ার তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে সাউথ ইস্ট ডিভিশন অর্থাৎ দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত অংশ বলে পরিচিত গড়িয়াহাট, বালিগঞ্জ, লেক, যোধপুর পার্কের মতো এলাকা। এখানকার বাসিন্দারা খুইয়েছেন ১ কোটি ৩০ লক্ষ ৭ হাজার টাকা। এছাড়াও সাউথ ডিভিশন এক কোটি এক হাজার, ইএসডি ৫৩.১৫ লক্ষ, ইডি ৪০.৮১ লক্ষ, পোর্ট ডিভিশন ২৯.৮৮ লক্ষ এবং নর্থ ডিভিশনের বাসিন্দারা চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনে ২৪ লাখ টাকা সাইবার প্রতারকদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই পর্বে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলকাতা পুলিশের নবতম ডিভিশন ভাঙড়। কৃষিপ্রধান ভাঙড়ের বাসিন্দারা খুইয়েছেন মাত্র ৪.৬৫ লক্ষ টাকা।