নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবার সাত্যকি মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘ফুল হাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিলে লাইক বেশি আসছে। ফ্যাশন এখন এটাই। তাই দাম বেশি হলেও ফুল কিনতেই হবে।’ এ ফুলের দাম কত? ফুল বিক্রেতা সুফল মিস্ত্রি বললেন, ‘লিলি ২২০ টাকা। ডেইজি ১০০ টাকা পিস। এগুলি বেঙ্গালুরু থেকে আসে। তাজা থাকে অনেক দিন। নীচের দিক কেটে জলে ডুবিয়ে রাখতে হয়। গোলাপ এখন ৪০ টাকা। চন্দ্রমল্লিকা ২০ ।’ শুনে তরুণ-তরুণীরা বললেন, ‘দাম যতই হোক কিনতে হবেই। ফুল হাতে ‘ইনস্টা রেডি’ ছবি চাই।’
শীতের শহরের আকাশে পরিযায়ী পাখির ভিড়। আর রাস্তাঘাটে আট থেকে আশির আনন্দঘন জমায়েত। সেই আনন্দ আরও একটু রঙিন করে তুলতে শহরের বিভিন্ন ফুটপাত যেন ফুলের বাগানে পরিণত হয়েছে। রবীন্দ্রসদন হোক বা লেক মার্কেট সর্বত্র বাহারি ফুলের ডালি নিয়ে বসে বিক্রেতারা। ক্রেতাদের ভিড় কম নয়। চড়া দামে ফুল কিনছে জেন জি। সেখানেই মিলছে বেঙ্গালুরুর লিলি, ডেইজি, তার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে হাওড়ার ফুলের বাজার থেকে নিয়ে আসা গোলাপ-চন্দ্রমল্লিকা।
লেক মার্কেটের ফুটপাত যেন রঙিন ফুলের আস্ত বাগান। সারাবছর যেখানে থাকে একঘেয়ে ফুলগুলো। এখন সে এলাকাই যেন শীতের ফুলের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে। তরুণ-তরুণীরা কিনছেন। সঙ্গে আবার বিয়ের মরশুম। তাই উপহারের জন্যও অনেকের পছন্দ দামি ফুল। ফুল কিনলেই শুধু হল না, তা হাতে নিয়ে ঝকঝকে ছবি তোলাও দরকার। তাই কেনা মাত্রই ফুল হাতে বান্ধবীর ছবি তুলতে হল অনেককে। লেক মার্কেটের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে আকাদেমি অব ফাইন আর্টসের সামনের ফুটপাত। মোহর কুঞ্জ কিংবা রবীন্দ্রসদনে আসা তরুণ-তরুণীরা একে অপরের হাতে ফুলের গোছা তুলে দিচ্ছেন। তবে সবকিছুর রাজা হল নিউ মার্কেট। সেখানেও বাহারি ফুলের বাজারে যেন মেলা বসেছে। লেক মার্কেটে এসে এক তরুণী বললেন, ‘সবসময় তো নিউ মার্কেটে যাওয়া হয় না। আমাদের জন্য লেক মার্কেটই ভালো।’ সেখানেই দোকান ফুল বিক্রেতা সুফল মিস্ত্রির। তিনি বললেন, ‘এখন বিয়ের মরশুম। তাই ফুলের বিক্রি ভালোই। দেখছি কমবয়সি ছেলে-মেয়েরা ফুল কিনছে ছবি তুলবে বলে। ওরা খুব একটা দরদাম করে না।’ কলকাতা এখন কেক, ডাক, টার্কির সঙ্গে শুধু শীত কাটায় না। ফুল হাতে না থাকলে শহরের মান ঠিকঠাক থাকছে না।
রঙিন লেক মার্কেট। -নিজস্ব চিত্র